বাজার থেকে বেশি দামে ডলার কিনছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো

বাজার থেকে মার্কিন ডলার কেনার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। যে কোন মূল্যে ডলার সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নামায় মুদ্রাবাজার অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানির ক্ষেত্রে বেশী দামে ডলার কেনায় তাদের লোকসানও বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে বেশি দামে ডলার কেনার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স এসোসিয়েশন (বাফেদা) এক সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের চেয়ে ১০ পয়সা কম দামে বিদেশী এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে ডলার কেনার কথা জানায়। অথচ বাফেদার চেয়ারম্যান জনতা ব্যাংকের সিইও ও এমডি এসএম আমিনুর রহমানের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে সম্প্রতি অতিরিক্ত মূল্যে ডলার কিনেছে। ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ইত্তেফাককে বলেন, এটি উচিত নয়। এতে ব্যাংকিং খাতের শৃংখলা নষ্ট হয়। আন্তঃব্যাংক লেনেদেনের স্বার্থে ডলার কেনার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরন করা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত সপ্তাহের নির্দিষ্ট এক দিনে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে ব্যয় হয়েছে ৮০ টাকা ৮০ পয়সা। সে হিসেবে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর কাছ থেকে ব্যাংকগুলোর ৮০ টাকা ৭০ পয়সা দরে ডলার কেনার কথা। কিন্তু একই দিনে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনেছে ৮১ টাকা ৬০ পয়সা দরে। এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার কিনে তা বেশি দামে বিক্রি করায় লোকসান বাড়ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর। বিপিসি, টিসিবি এবং বিসিআইসিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত কর্পোরেশনের পণ্য আমদানিতে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র খোলা হয়। ডলারের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় তাদের লোকসানের বোঝাও দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ধরনের ঘটনার পর তারা ব্যাংকগুলোকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ব্যাংকগুলোকে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বাজারের সাথে ডলারের মূল্য নির্ধারণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা অমান্য করলে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।