বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত ৫১

গতকাল রবিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে সংঘর্ষে ৫১ জন আহত হয়েছে। খবর ইত্তেফাক অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। খাগড়াছড়ি ঃ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও মহালছড়ি উপজেলায় ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। উভয় ঘটনায় আহতদের মধ্য থেকে ৬ জনকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মহালছড়ি উপজেলায় সকাল সাড়ে ৯টায় আওয়ামী লীগের পক্ষে স্মৃতি সৌধে ফুল দিতে যাওয়ার পথে বিএনপি অফিস লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় ৫ জন আহত হয়। আহতরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজুর রহমান, ছাত্রদল কর্মী মো. সাদ্দাম, পথচারী মো. সেলিম, মো. হালিম এবং শিশু বনিক। মহালছড়ি থানার ওসি জুবাইরুল হক জানান, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। একই সময় মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুমতি এলাকায় স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রায় বিএনপির একটি মিছিল থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তাত্ক্ষণিক সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাত্ক্ষণিক আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। মাটিরাঙ্গা থানার ওসি আবু ইউছুফ মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পীরগাছা (রংপুর) ঃ রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা বাজারে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ফেরার সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংর্ঘষে ১৫ জন আহত ও ৩টি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে গুরতর আহত ছাওলা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে (৪৪) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা ছাওলা ইউনিয়নে বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালন উপলক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পৃথক মিছিল বের করে। মিছিল চলাকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা একে অপরকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে লাঠি-সোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে ছাওলা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, যুবলীগ সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন, অর্থ সম্পাদক আব্দুস ছালাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত্ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুবদল সদস্য মুনছুর আলী, ছাত্রদল সম্পাদক মনজু মিয়াসহ ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে পাওটানা বাজারে বিএনপি ও শিবির কর্মীর ৩টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। অপরদিকে ছাওলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী বারী জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) ঃ বিজয় দিবসে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়েছে। বিজয় দিবসের শোভাযাত্রায় যোগদানের উদ্দেশ্যে গৌরীপুরে আসার পথে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেনের গাড়ী বহরে হামলা-সংঘর্ষে কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে উপজেলা বিএনপির বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নিতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন তার নেতা-কর্মীদের নিয়ে শ্যামগঞ্জ থেকে গৌরীপুর আসার পথে শ্যামগঞ্জ-গৌরীপুর সড়কের উপজেলার কাউরাট এলাকায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক কোয়াছম উদ্দিন গ্রুপ হামলা চালায়। এসময় ৩টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর এবং কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়। গুরুতর আহত বিএনপি নেতা ও সাবেক ভিপি ফারুখ আহাম্মদ (৩৮) ও যুবদল নেতা সবুজকে (২৬) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে এম ইকবাল হোসেনকে নিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। জলঢাকা (নীলফামারী) ঃ নীলফামারীর জলঢাকায় বিজয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়া শোভাযাত্রায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা জাতীয় ছাত্রসমাজের দুইটি গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রসমাজের ৮ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। উপজেলা ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক জাকির আল হাসান হাসু ও সদস্য সচিব আনিছুর রহমান যাদুর নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রসমাজের ২ শতাধিক নেতা-কর্মী জলঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য দিতে যাওয়ার পথে কলেজ মোড় নামক স্থানে ওত পেতে থাকা বিদ্রোহী গ্রুপ বাপ্পীর নেতৃত্বে কয়েকজন অতর্কিতে হামলা করে পুষ্পার্ঘ্যটি ভেঙ্গে ফেলে মিছিলকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে উপজেলা ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক হাসু, সদস্য সচিব যাদু, সদস্য রুবেল, মেহের হোসেনসহ ৮ নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ছাত্রসমাজের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে থানা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকলে এস.আই মাহাবুব ও কার্তিক মোহন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা চলে যায়। হাতিয়া: বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে হাতিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ নিয়ে ভোরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পৌর বিএনপির সভাপতি ও হাতিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাজ্জাদ হোসেনসহ (৫৫) ৩ জন আহত হন। আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। আহত বিএনপি নেতা এডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, পুলিশের অনুমতি নিয়ে আওয়ামী লীগের পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য দিতে গেলে কতিপয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মী হামলা চালায়। এ সময় রডের আঘাতে তার কপাল ফেটে যায়। এছাড়া হামলায় বিএনপি কর্মী আশিক ইকবাল (৩৫) ও নুর ইসলাম বাদশা (২০) আহত হন। এদিকে যথাযথ মর্যাদায় উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বিজয় দিবস পালিত হয়। উজিরপুর: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন বিজয় মিছিল বের করলে সেখানে ছাত্রলীগের হামলায় হাফিজুর রহমান ছিন্টু নামক এক বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মিছিল বের করে। এরপর মিছিল মুখোমুখি হলে উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় ছিন্টু আহত হন। জামালপুর: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পন্ড হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে সানন্দবাড়ী বাজার এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম সমর্থক এনামুল হক রাজার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা বের করে। অপরদিকে বিএনপি’র সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সমর্থক ইউনিয়ন সভাপতি নুরুল আমীন এবং সাধারণ সম্পাদক আরজান আলীর নেতৃত্বে অপর একটি মিছিল বের হয়। মিছিল দু’টি আব্দুর রাজ্জাক সুপার মার্কেট অতিক্রম করার সময় দু’গ্রুপে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে মিল্লাত গ্রুপের নেতাকর্মীরা কাইয়ুম গ্রুপের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বিজয় দিবসের খাদ্যদ্রব্য লুট করে নিয়ে যায়। অপরদিকে কাইয়ুম গ্রুপের লোকজন মিল্লাত সমর্থিত কলাহাট এলাকায় অবস্থিত অফিসে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর চালায়। এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গফরগাঁও: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে উপজেলার কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান এমপি গ্রুপ, উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপ ও পৌর মেয়র গ্রুপের পাল্টাপাল্টি শ্লোগান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃংখলা দেখা দেয়। জুতা পায়ে শহীদ বেদিতে উঠাসহ ১২টা ১ মিনিটের পূর্বেই পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনা ঘটে। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণকে কেন্দ্র করে গত শনিবার সন্ধা থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান ৩ গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রাত ১০টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহমি গোলন্দাজ গ্রুপের নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধ এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে এমপি গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদের গ্রুপ, উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহমি গোলন্দাজ বাবেলের গ্রুপ ও পৌর মেয়র এডভোকেট কায়সার আহম্মেদের গ্রুপের কয়েক শত নেতাকর্মী স্মৃতিসৌধ এলাকায় তাদের নেতাদের নামে পাল্টাপাল্টি শ্লোগান দিচ্ছিল। পরে স্থানীয় এমপি গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ বক্তব্য দেয়ার সময় উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের কর্মীরা বাধা দিতে চেষ্টা করে। এ সময় চরম বিশৃংখলা দেখা দেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বার বার চেষ্টা করেও শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে পারেননি। এক পর্যায়ে শত শত আওয়ামী লীগ কর্মী হুড়োহুড়ি ও ঠেলাঠেলি করে শহীদ বেদিতে উঠে পড়ে । ইউএনও সাবিনা ইয়াসমিন পড়ে গিয়ে আহত হন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের লোকজন জুতা পায়ে শহীদ বেদিতে উঠে পড়ে । ১২টা ১মিনিটের ৩১বার তোপধ্বনির পূর্বেই ১১টা ৫০ মিনিটের সময় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মহাদেবপুর (নওগাঁ): মহাদেবপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্যান্ডেলে বসার জায়গা পেলেন না মুক্তিযোদ্ধারা। প্যান্ডেলে বসার জায়গা না পেয়ে প্যান্ডেলের সামনে মাটিতে বসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। রবিবার মহাদেবপুর ডাকবাংলো মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান স্থলে এসে বসার জায়গা না পেয়ে মাটিতে বসে তাত্ক্ষণিক এর প্রতিবাদ জানান। প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ময়নুল ইসলাম ময়েন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহাদেবপুর উপজেলা কমান্ডের সাংগঠনিক কমান্ডার মোবারক আলী জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ডেকে এনে বসার জায়গা না দিয়ে অপমান করা হয়েছে। এব্যাপারে অনুষ্ঠানের সভাপতি মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, এ অনাকাংক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। পিরোজপুর:বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আমন্ত্রণ না করায় প্রীতি ফুটবল খেলা ও আলোচনা সভা পণ্ড করে দেয়া হয়েছে। আর এ পণ্ডের নায়ক হচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি মাসুদ রানা। কলেজ শিক্ষক ও ছাত্রদের সূত্রে জানা গেছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্র-শিক্ষকদের এক প্রীতি ফুটবল খেলা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেন। এ খেলায় কলেজের ডিগ্রি পাস কোর্সের বিদায়ী ছাত্র (পরীক্ষা দেয়া) জেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি মাসুদ রানাকে আমন্ত্রণ না করায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে সকাল ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে দলবল নিয়ে কলেজ মাঠে এসে আয়োজক কলেজ শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয় এবং নানা হুমকি দেয়। প্রকাশ্যে শিক্ষকদের গালাগাল করায় এবং হুমকি দেয়ার প্রেক্ষিতে ভয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা দ্রুত মাঠ ত্যাগ করে চলে যায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষ খেলা বন্ধ করে দেন। পরে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকরা ছোট আকারে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা করেন।