সন্তানের ওপর অভিভাবকের মতামত চাপিয়ে দিলে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনাই বেশি

পিতা-মাতার স্বপ্ন-বিলাসী মন সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন-সৌধ নির্মাণ করবে এটাই স্বাভাবিক । শারীরিক-মানসিক ক্লেশ শুধু নয়,আর্থিক সংকটেও পিতা-মাতা বিচলিত হন না ।কারণ যেভাবেই হোক সন্তানকে হতে হবে সম্মানিত,গৌরবান্বিত,দৈশিক-বৈশ্বিক অঙ্গনে মহিমান্বিত । এতো সকলেরই কাম্য । তবে এও অনস্বীকার্য যে, সন্তানের শৈশব-কৈশোরের আচরণিক-মানসিক প্রবণতাকে অত্যন্ত সচেতনভাবে অনুধাবন করে ,সেই অনুযায়ী সন্তানকে এগিয়ে নেবার মানসিকতা থাকতে হবে অভিভাবকের। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীর আগ্রহ, ইচ্ছে-অনিচ্ছেকে নিছক ছেলেমি বলে বিবেচনা করে অভািভবক তাঁর নিজের ইচ্ছের প্রতিফলন দেখতে সন্তানকে বাধ্য করেন । শিশুমনোবিজ্ঞান বলে—শিশুকে ধমক দিয়ে বা ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোনো কাজে বাধ্য করলে শিশুকাল থেকেই তার মধ্যে গোপনে কাজ করবার প্রবণতা তৈরি হয় । এমন অনেক মনীষীর জীবন থেকে দৃষ্টান্ত দেয়া যাবে, যাঁরা নিজের প্রতিভা বিকাশের অনুকুল পরিবেশ পেয়েছিলেন বলেই আজ বিশ্ববরেণ্য হয়ে আছেন । যেমন-চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন,কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ। কিশোর জয়নুলের আঁঁকার ইচ্ছেকে দমন করে উকিল বানানোর চেষ্টা করলে আমরা একজন বিশ্ববরেণ্য আঁঁকিয়েকে পেতাম না। মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতার ঐকান্তিক ইচ্ছে ছিল ছেলে বড় হয়ে বিত্ত অর্জনে প্রবৃত্ত হবে কিন্তু তরুণ মধুসূদনের জেদ এবং অভিলাষ তাঁকে স্মরণীয় করেছে তেমনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিলেত থেকে ব্যারিস্টার হয়ে এসে যদি তাতেই মনোযোগী হতেন তবে ঠাকুর বংশের বিত্ত-বৈভব বৃদ্ধি পেত সন্দেহ নেই কিন্তু বাংলা সাহিত্যের বৈভব অর্জন কীভাবে হতো কে জানে। এমন অনেক দৃষ্টান্ত দেয়া যাবে। সন্তানের ওপর অভিভাবকের মতামত চাপিয়ে দিলে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনাই বেশি ।একদিকে যেমন সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থাকেনা,অন্যদিকে মনের ইচ্ছের বিরুদ্ধে শিক্ষাগ্রহণের ফলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত না হওয়ায় শিক্ষার্থী হীনমন্যতায় ভোগে । আর হীনমন্যতা কখনও কখনও কিশোর অপরাধের জন্ম দেয় । শিশু-মনে থাকে স্বাধীন চিন্তার জগত্ । চিন্তার জগতে বিচরণ করতে করতে শিক্ষার্থী নিজেই একটি কল্পনার জগত্ তৈরি করে ফেলে, তার সেই মেধা-মনন-প্রতিভা বিকাশের জন্য পরিবারকেই অনুকুল পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।