বঙ্গবন্ধু সেতুর ওজন স্টেশনে দুর্নীতির অভিযোগ
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৪
বঙ্গবন্ধু সেতুর ওজন স্টেশন ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। স্কেল অপারেটর ও টোল আদায়কারী সিন্ডিকেট ঘুষের বিনিময়ে প্রতিদিন গড়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই ১৫শ’ থেকে ২ হাজার ট্রাক পারাপার করছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু সেতু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানী অবৈধভাবে প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করছে।
জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহনের সর্বোচ্চ ওজন ২৪ টন ৫০০ কেজি। স্কেল অপারেটর, স্টকইয়ার্ডের লেবার ও সিগন্যালম্যানরা সিন্ডিকেট করে ঘুষের বিনিময়ে সেতু দিয়ে ৩৫-৪০ টনেরও অধিক ভারি যানবাহন পারাপার করছে। সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তরাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পণ্যবাহী যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে এবং রাত ৩টা থেকে পরেরদিন সকাল পর্যন্ত পূর্বপাড়ে বেশি চাপ থাকে। এই সুযোগে স্কেল অপারেটর ও সিগন্যালম্যানরা নির্ধারিত ওজনের বেশি ভারি যানবাহন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। গত ৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় ওজন স্টেশনে দুই স্কেল অপারেটর আড়াই হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে ৩৫ টন ওজনের পণ্যবাহী একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ১৬-৫৫০৩) ছেড়ে দেন। পরে ছেড়ে দেয়া ট্রাকটি সেতুর পূর্বপাড় থেকে আটক করা হয়। চালক বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ের স্কেল অপারেটর সৈকত হোসেন ও ওমর ফারুক, সিগন্যালম্যান নাসির ও শুভকে ঘুষ দিয়ে সেতু পার হয়েছেন বলে স্বীকার করেন। এ ঘটনায় ওই ৪ কর্মকর্তাকে কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করলেও পরবর্তীতে তাদেরকে আবারও কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওজন স্টেশনে স্কেল অপারেটররা ট্রাকের চাকা ভারসাম্য করতে মালপত্র স্থানান্তর অথবা বেশি পণ্য নামিয়ে রাখার জন্য জোরপূর্বক নির্ধারিত স্টকইয়ার্ডে পাঠান। জরিমানার ভয়ে অসহায় পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা বাধ্য হয়েই ৫০ টাকা দিয়ে স্টকইয়ার্ডে প্রবেশ করেন। স্টকইর্য়াডের প্রবেশের পরে চাকার এক্সেলের জন্য একটন অথবা আধাটন মালপত্র সরিয়ে ভারসাম্যর জন্য সামনের দিকে নিতে সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা লেবারদের দিতে হয় ৫০০-৮০০ টাকা করে। কিন্তু এসবের পরেও চালকদের ঝুঁকি রয়েই যায়। এছাড়াও ওজন স্টেশনের সামনে গর্ত থাকায় পণ্যবাহী ভারি যানবাহন ওই গর্ত অতিক্রম করার সময় ওজনে কয়েকশ’ কেজির তারতম্য ঘটে। স্কেল অপারেটররা পণ্য বোঝাই ওই ট্রাক ঘুরিয়ে দিয়ে পুনরায় ওজন স্টেশনে আসতে বলে। এসময় প্রতিবার ঘুরিয়ে ওজন স্টেশনে আসতে চালকদের গুনতে হয় ৫০ টাকা করে।
কথা হয় পাবনার ট্রাকচালক আব্দুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, আমার ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৩৩৬০) মালপত্রসহ ২৪ টন থাকার পরও একেক সময় একেক ওজন ধরা পড়ে মেশিনে। ৫ বার আমাকে স্কেল অপারেটররা স্টকইয়ার্ডে পাঠায়। আর প্রতিবার স্টকইয়ার্ডে প্রবেশের জন্য দিতে হয় ৫০ টাকা।
৫০ টাকা নেয়ার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ওজন স্টেশনের সামনে গর্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, বিবিএকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। টাকা পেলেই সংস্কার শুরু হবে।