আজ হানাদার মুক্ত হয় যেসব এলাকা

১৯৭১ সালের এই দিনে রাজশাহী, নওগাঁ ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া হানাদার মুক্ত হয়। চূড়ান্ত বিজয়ের পরও এসব এলাকা হানাদারদের দখলে ছিল। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের রিপোর্ট। রাজশাহী ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটলেও রাজশাহী মানুষ তখনো মুক্তির প্রহর গুণছিল। পাকহানাদার বাহিনী তখনো রাজশাহীতে বাঙালী যোদ্ধাদের অগ্রগতি ঠেকানোর দুর্বল প্রয়াস অব্যাহত রেখেছিল। কিন্তু পাকবাহিনীর সকল প্রতিরোধ ভেঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা ১৬ ডিসেম্বর রাজশাহী শহরে প্রবেশ করেন। ১৭ ডিসেম্বর সকালে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাকবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হল ক্যান্টনমেন্টে চলে যায়। ঐ দিন সন্ধ্যায় হানাদার বাহিনী নাটোরে আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে শুরু করে। ১৮ ডিসেম্বর ভোরে পাকবাহিনীর শেষ দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হল ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে যায়। ২১ ডিসেম্বর তারা নাটোরে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করে। ফলে ১৮ থেকে ২১ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় রাজশাহী। নওগাঁ দীর্ঘ নয় মাস হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আজকের এই (১৮ ডিসেম্বর) দিনে শত্রু মুক্ত হয় তত্কালীন নওগাঁ মহকুমা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নওগাঁ মহকুমা ছিল ৭ নম্বর সেক্টরের অধীন। ভারতে এই সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক হিসাবে কাজ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জলিল। সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর নুরুজ্জামান। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন শহীদ মেজর নজমুল হক ও ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন। মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) ১৮ ডিসেম্বর পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শত্রুমুক্ত হয়। ১৭ ডিসেম্বর শেষ রাতে লেফটেন্যান্ট আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে চারশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সুন্দরবন অঞ্চল হতে মঠবাড়িয়ার কালিহাট বাজারে অবস্থান নেন। পাশাপাশি ঐ রাতেই স্থানীয় খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দারের মধ্যস্থতায় স্বাধীনতা বিরোধীরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসর্ম্পণের প্রস্তাব দেন। ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের শ্লোগান দিতে দিতে বীরদর্পে মঠবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করেন। এভাবেই কোন রক্তপাত ছাড়াই ১৮ ডিসেম্বর মঠবাড়িয়া মুক্ত হয়।