বন্ধুর খোঁজে দূরদেশে কিম

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রত্যাশা

ও প্রাপ্তির খতিয়ান

তৌহিদ আজিজ

 

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কিম জং উন অনেকটা নড়েচড়ে বসেছেন। আর এ কারণে নিজের পাল্লা ভারি করতে দূরদেশ সফরেও পিছপা হলেন না তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, পিয়ংইয়ংয়ের ওপর যেভাবে নিষেধাজ্ঞার খড়গ চেপে বসে আছে তা থেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতেই গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন কিম। লক্ষ্য একটাই পুরনো বন্ধুত্বকে ঝালাই ও নিজের দেশের ওপর পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা। সেই দৃষ্টিতে কিমের প্রত্যাশা অনুযায়ী কতখানি প্রাপ্তির ঝুড়ি পূর্ণ হলো তাই এখন দেখার বিষয়।

ভ্লাদিভস্তকের ফার ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আর্তিওম লুকিনের মতে, বিশ্বের কাছে উত্তর কোরিয়ার যে চাহিদা এখনো ফুরায়নি তার জানান দিতেই কিমের এই সফর। প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি যাই থাকুক না কেন এতে করে পিয়ংইয়ং যে তাদের অবস্থান বিশ্বের কাছে কিছুটা হলেও তুলে ধরতে পেরেছে সেটাই কম কি। তবে বিষয় হচ্ছে যে এর মাধ্যমে ভেস্তে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার আলোচনার বিষয়টি আবার বিশ্বের গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, কিম এখন আর যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে থাকতে চান না। কোরীয় উপদ্বীপে মস্কোও যে একটা ‘ফ্যাক্টর’ তা এর মাধ্যমে উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে রাশিয়া যে বৃহত্ একটি শক্তি তা কিছুটা হলেও প্রমাণিত হয়েছে।

এবার দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকে কি কি বিষয় উঠে এসেছে তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখানে গুরুত্ব পায়। বৈঠকে কিম বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি ও নিরাপত্তা পুরোটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। তাই ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করারই ইঙ্গিত করেছেন।

কিম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে খুব একটা কাঙ্ক্ষিত বলা যায় না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মধ্যে এর আগে যে আলোচনা হয়েছিল এ সংকট উত্তরণে বাস্তবিক অর্থেই তা কোনো কাজেই আসেনি। তাই সেই বিবেচনায় পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি পরিস্থিতির জন্যই উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত এবং তারা সেই অর্থে নিজেদের সুরক্ষিতও রাখবেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কিম-পুতিন বৈঠকের সফলতা বা ব্যর্থতা যাই থাকুক না কেন ‘আত্ম অহমিকাপূর্ণ’ কিম যে ঘরের বাইরে বের হয়েছেন সেটাই বড় ব্যাপার। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে কিম-পুতিন সম্পর্কেরও একটা নতুন দিকের উন্মোচন হলো।