বিচার বাধাগ্রস্ত চেষ্টাকারীদের
খুঁজে বের করা উচিত
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৪
যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টাকারীদের সরকারের খুঁজে বের করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর। গতকাল সোমবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালের প্রথম কার্য দিবসে এই মন্তব্য করা হয়। এটিএম ফজলে কবীর বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১ এর পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে বেলজিয়াম প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের কথিত স্কাইপি কথোপকথন হ্যাক করে তা সংবাদপত্রে প্রকাশের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের সরকারের খুঁজে বের করা উচিত। কথিত স্কাইপি কথোপকথন পত্রিকায় প্রকাশের পর বিচারপতি নিজামুল হক গত ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে শোকজ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি’র দুই আইনজীবী এইচএম আহসানুল হক হেনা ও ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্যামেরা ট্রায়ালে রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু শুনানির সময় তার দুই আইনজীবীর একজনও এজলাসে উপস্থিত ছিলেন না। এ অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে মর্মে আগামী ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার কার্যক্রম আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এদিকে এজলাসে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, আসামিকে এজলাসে না নেয়ায় আমরা প্রবেশ করিনি।
গোলাম আযমের মামলার কার্যক্রম আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি
এদিকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের মামলার কার্যক্রম আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুর পর গোলাম আযমের মামলার কার্যক্রম কমপক্ষে সাত দিনের জন্য মুলতবির আবেদন করে আসামিপক্ষ। পরে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে আগামীকাল বুধবার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। একই দিনে গোলাম আযমের বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সারসংক্ষেপ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।
গতকাল গোলাম আযমের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা ছিলো যে, গোলাম আযমের পক্ষে প্রথম সাফাই সাক্ষী তার ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্তকৃত) আব্দুল্লাহহিল আমান আজমী ও তার আইনজীবী মিজানুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে পারলে সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সাঈদীর সঙ্গে দেখা করার আবেদন খারিজ
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে আসামিপক্ষের করা একটি আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল সাঈদীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে আবেদনটি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।
আসামিপক্ষের বক্তব্য শুনে এ আবেদন নাকচ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। উল্লেখ্য, সাঈদীর মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। মামলাটির রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল।
কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী। শুরুতেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।