সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গঠিত সামরিক আদালতে বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। এতে ওই আদালতের দেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের সাজা বাতিল, স্বাভাবিক অবসরে যাওয়া পর্যন্ত বকেয়া বেতন ভাতা ও পেনশন, সন্তানদের চাকরিসহ ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে প্রতিরক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও বিমান বাহিনী প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মতিউর রহমান। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ভোররাতে বিমান বাহিনীতে সংঘটিত হয় ভয়াবহ এক বিদ্রোহ। কঠোরভাবে দমন করা হয় সেই বিদ্রোহ। ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়া হয় ১১ জন অফিসারসহ এক হাজার ৪৫০ জন বিমান সেনাকে। বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত হন আরো চার হাজার জন। নিখোঁজ হন আরো অসংখ্য।
এই বিদ্রোহের ঘটনার পুনঃতদন্ত দাবি করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা। তারা দাবি করেন, ওই বিদ্রোহের পর অন্যায়ভাবে অনেক বিমান সেনাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন। ফাঁসি হওয়া অনেকের লাশ পর্যন্ত পাননি তাদের পরিবারের সদস্যরা। পরিবারগুলো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পায়নি।
সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট সাইদুর রহমানের ছেলে মো. কামরুজ্জামান মিঞা লেলিনসহ ১৪ কর্মকর্তার সন্তান এবং বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত সেনা ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের ৮৮ জন সন্তান এ রিট করেন। রিটকারীদের আইনজীবী মতিউর রহমান বলেন, সামরিক ফরমানবলে গঠিত সামরিক আদালতে অন্যায়ভাবে এসব কর্মকর্তাদের বিচার করা হয়েছিল। সেই বিচারে যাদের সাজা হয়েছিল সেই সব কর্মকর্তাদের সন্তানরা এ রিট করেন।