সরকারকে হেয় করতে দুদককে চাপ দিচ্ছে বিদেশি সংস্থা
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩১
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওপর একটি বিদেশি সংস্থা চাপ দিচ্ছে। তারা মনে করেন সরকারকে দুর্নীতিবাজ বানিয়ে হেয় করতে পারলে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা যাবে। তিনি বলেন, রামুতে সন্ত্রাস, গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড ও বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। পরাজিত শক্তির দোসরদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষকে ওই সরকার নির্যাতন করেছে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর পুত্রদের উত্তমমধ্যম দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়। আমাকে দেশে আসতে বাধা দেয়া হয়। আমি জোর করে দেশে এসেছিলাম বলেই বিরোধী দলীয় নেত্রীকে বিদেশে যেতে হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় হাওয়া ভবনসহ বিএনপি দুর্নীতির বিচার ধীর গতিতে চলছে। বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী যদি আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে, তাদের দুর্নীতির বিচার দ্রুত গতিতে চলবে। যারা বিরোধী দলীয় নেত্রীকে তত্ত্বাবধায়ক আনার পরামর্শ দিচ্ছেন তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক আসলে আবার যে সেই অত্যাচার-নির্যাতন আসবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়কের দাবি তুলে টেলিভিশনের টকশোতে বক্তব্যদানকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ আছে, কিন্তু তারা জনগণের সমর্থন পায় না। দল করা কিংবা জনগণের কাছে যাওয়ার ক্ষমতাও তাদের নেই। কিন্তু তাদের অর্থ ও মিডিয়া রয়েছে। এ কারণে ফাঁকফোকর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশে তারা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা এখন তত্ত্বাবধায়ক দাবিতে সোচ্চার। কিন্তু নির্বাচনের জন্য তিনি উপদেষ্টা হয়েও নির্বাচন না দিতে পেরে পদত্যাগ করেছিলেন। একেক বার একেক গ্রুপ পদত্যাগ করেছিল। এরপর জরুরি অবস্থা-ওয়ান ইলেভেন এসেছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছি। এ কারণে নানাভাবে সরকারের কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে দেশি বিদেশি দোসররা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের দেশীয় দোসররা প্রতিদিন সরকার উত্খাতের হুমকি দিচ্ছে। সরকারকে দুর্নীতিবাজ বানাতে দেশি-বিদেশি চক্র নানা চাপ ও কৌশল প্রয়োগ করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেছি। বর্তমান সরকারের সময় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার নির্বাচনের সবগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। একটি নির্বাচন নিয়েও কোন অভিযোগ আসেনি। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ানোসহ দেশ সার্বিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র এখনো ক্রিয়াশীল। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিএনপি নানা ষড়যন্ত্র করছে। নানা ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে। এ বিচার করে আমরা দেশের মানুষকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করব। বিএনপির এক নেতার নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার ২০ নামে ২০টা এ্যাকাউন্ট আছে। মৃত ব্যক্তির নামে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দিয়ে বাড়ি দখল করে, তাদের তত্ত্ব কথা শুনলে আপনার (খালেদা জিয়া) মঙ্গল হবে না। নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অব. এবি তাজুল ইসলাম,সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কবিতা অবৃত্তি করেন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর এমপি।