সরকারের ব্যাংক ঋণ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম

ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেয়া ঋণ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ ঋণের স্থিতি দেখিয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। চলতি (২০১২-১৩) অর্থবছরের ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে ৯ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেয়া হয়েছে ১৫২ কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ নেয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে। তবে বেশিরভাগ ঋণ নেয়া হয়েছে গত দুই মাসে। ব্যাংক থেকে সরকারের নেয়া ঋণ সাধারণত সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ করা হয়ে থাকে। এর আগে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আগের নেয়া ঋণের সুদও পরিশোধ করেছে। এদিকে, দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সরকারের ঋণের যোগান দিতে বন্ড দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে বন্ডের বিনিময়ে কখনো বৈদেশিক মুদ্রা কেনা হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংক সূত্রগুলো। সম্প্রতি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামনেই নির্বাচনের বছর। ফলে অর্থবছরের বাকি সময়টাতে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যাবে। কারণ এ সময়ে সরকারকে তার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা কমে গেছে। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারেও ডলারের চাহিদা নেই বললেই চলে। এ পরিস্থিতিতে যেসব ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত ডলার রয়েছে সেসব ব্যাংক বেকায়দায় পড়েছে। বাজারে ডলার বিক্রি করতে না পেরে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক ৬ মাস মেয়াদি সরকারি ইসলামী ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ৩০ দিন মেয়াদি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা কিনছে। এতে ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থ বন্ড এবং বিলে আটকা পড়ছে। প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, রেমিট্যান্স, রফতানি আয়সহ বিভিন্ন উপায়ে পাওয়া কি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংক নিজেদের কাছে রাখতে পারবে তার সীমা বেধে দেয়া আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের মোট মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ডলার ধরে রাখতে পারবে না। নির্ধারিত সীমার বেশি ডলার থাকলে দিনশেষে তা আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বিক্রি করতে হবে। বাজারে ক্রেতা পাওয়া না গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে তা বিক্রি করতে হয়।