প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে যশোরে ত্রিমুখী প্রচারণা

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে ত্রিমুখী প্রচারণার লড়াইয়ে নেমেছেন যশোরের আওয়ামী লীগ নেতারা। অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের এই পৃথক প্রচারণা দলের সমন্বয়হীনতাকেই প্রকট করে তুলেছে বলে অনেকে মনে করছেন। আগামী বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সফল করতে জেলা আওয়ামী লীগের দুইটি বর্ধিত সভা হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘যশোরে দলীয় নেতাদের অনৈক্য দূর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সামনে রেখে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এভাবে চললে এমন কোনো শক্তি নেই যে, আওয়ামী লীগকে হারাতে বা বিপর্যস্ত করতে পারে।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর এই বক্তব্যকে কোনোরকম আমলে না নিয়েই দৃশ্যত তিনধারায় বিভক্ত হয়ে পৃথক ‘প্রচারণা প্রতিযোগিতা’য় অবতীর্ণ হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো প্রচারণার নামে রীতিমতো শোডাউনে নেমেছেন। তবে সেই তুলনায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলী রেজা রাজু এ লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন। কৌশলগত কারণেই তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান। শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নামের সাথে কোনো মাইকে এমপি খালেদুর রহমান টিটোর জনসভা, কোনোটিতে আলী রেজা রাজুর জনসভা আবার কোনোটিতে শাহীন চাকলাদারের জনসভা বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সমন্বয় না থাকায় তিন নেতার তিন মাইক কখনো কখনো মুখোমুখি হয়ে পড়ছে। এ নিয়ে শহরবাসীকে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করতে শোনা গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব প্রচারণা চালাচ্ছি। সব পোস্টার, ব্যানারে জেলা আওয়ামী লীগের কথাই বলা আছে।’ পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার প্রচারণা সম্পর্কে খালেদুর রহমান টিটো এমপি বলেন, ‘যা দেখছ, তাই লেখ। এর বেশি মন্তব্য নেই।’ তবে এমপির সাথে সংশ্লিষ্ট সাবেক পৌর কমিশনার মারুফ হোসেন খোকন বলেন, ‘আমরা যেসব পোস্টার, ব্যানার করেছি- তার সবই জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।’ এদিকে জনসভার প্রচার কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, জনসভার প্রস্তুতি যথেষ্ট ভালো। ব্যক্তিগত শোডাউনের জন্য ত্রিমুখী প্রচারণা থাকলেও এই জনসভা ঘিরে সংগঠন এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।