পশ্চিম ভারতের রাজ্য রাজস্থান এক সময় বেশির ভাগ রাজ পরিবার ও রাজাদের বাসস্থল ছিল। সময়ের পরিবর্তনে এসব রাজ পরিবারের অনেক সদস্য রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজস্থানের তিনটি রাজ পরিবারের প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। আজ সোমবার ও আগামী ৬ মে ভোটগ্রহণে তাদের ভাগ্যের পরীক্ষা হবে। ঝালাওয়ার বরান আসন থেকে রাজস্থানের ঢোলপুর রাজ পরিবারের দুশিয়ান্ত সিং তিনবারের নির্বাচিত এমপি। তার মা ঢোলপুরের মহারানি বসুন্ধরা রাজে ছিলেন রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। এই আসনে ১৯৮৯ সাল থেকে তিনিই ছিলেন নির্বাচিত এমপি। ২০০৪ সালে ছেলের জন্য আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় এবারো এই আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দুশিয়ান্ত সিং। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের প্রার্থী প্রমোদ শর্মা। যিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি বলেই পরিচয় দেন।
জয়পুর রাজ পরিবারের সদস্য দিয়া কুমারিও এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি গায়েত্রী দেবীর নাতনি। এই গায়েত্রী দেবী ১৯৬২ সালের নির্বাচনে রাজপরিবারের প্রথম নারী সদস্য হিসেবে এমপি হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। দিয়া কুমারির বাবা সাওয়াই ভবানি সিং ছিলেন বিজেপির এমএলএ। জাতীয়তাবাদকেই পুঁজি করে নির্বাচনে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। নিজেকে তিনি সেনার মেয়ে বলেও পরিচয় দিচ্ছেন। আজকের ভোটে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের দেভকিনন্দন গুরজার, যিনি কৃষকের সন্তান। গুরজারের দাবি তিনি সাধারণ জনগণের সাথে আছেন এবং থাকবেন।
জয়পুরের কাছেই আলওয়ার আসনে লড়ছেন কংগ্রেস প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, তিনিও এক রাজপরিবারের সদস্য। ২০০৯ সালে তিনি এই আসনে জয়লাভ করেছিলেন। তার মা ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিজেপির এমপি ছিলেন। এবারের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির মাহান্ত বালাক নাথ। প্রসঙ্গত, বিজেপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজস্থানে গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গড়েছে কংগ্রেস।