ইউনেস্কো সম্মেলনে বাংলাদেশি

স্বপ্নচারী রবিউল

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে তরুণ সমাজের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুব সংগঠনের নেতৃত্বদানের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে নেয়া যার অদম্য ইচ্ছা। এমনই প্রত্যয় নিয়ে পথচলা এক স্বপ্নচারী তরুণের নাম মো: রবিউল ইসলাম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। মহত্ উদ্দেশ্য সমাজ সেবায় নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখা। আর এ সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সম্মানে থাইল্যান্ডে ইউনেস্কো সম্মেলনে ভিশন এইড ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়েছেন তিনি। পৃথিবীর ৪০টি দেশের সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ইউনেস্কো দশ দিনব্যাপী আয়োজন করেছে ‘ইউনেস্কো সম্মেলন’। যা ৬ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক ও থাই-ডাইমন্ড সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠনের ১০০ জন প্রতিনিধির কাছে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ সহজতর হওয়ার জন্য তাদের জ্ঞানকে বিকশিত করতে এবং সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজকে ত্বরান্বিত করার জন্য যুব সংগঠকদের নিয়ে ইউনেস্কোর এই আয়োজন। ভিশন এইড ইন্টারন্যাশনাল সংগঠনটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও এর বিস্তৃতি অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সামান্য সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রেখে দেশ জুড়ে সুনাম অর্জন করেছেন। পৃথিবীর অন্যান্য অনুন্নত দেশের সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে এ সংগঠনটির যাত্রা। তার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ইউনেস্কো সম্মেলনে রবিউলের শিক্ষামূলক ভ্রমণ। দিনটি ছিল মঙ্গলবার। রাত সাড়ে বারটা। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ব্যাংকক এয়ারওয়েজের একটি বিমান ছাড়লো ব্যাংককের উদ্দেশ্যে। অবতরণ করলো ভোর ৪টায়। এর পর থেকে শুরু হল ক্ষণিকের ১০দিন প্রবাসী জীবন কাটানো। থাকা-খাওয়া আরাম-আয়েশের কমতি নেই সেখানে। আরো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্ধুদের সাথে মিশতে পেরে আনন্দে আপ্লুত রবিউল। সে যেন কোন এক স্বপ্নপুরীর দেশে স্বপ্নচারী হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সম্মেলনে সভা সেমিনারে নিয়মিত যোগদান করছে। আয়োজক ইউনেস্কোর কর্মকর্তাগণ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে এ অনুষ্ঠানকে নতুন মাত্রায় রূপ দিয়েছেন। দশ দিনব্যাপী এ সম্মেলনের পাঁচদিন থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান ব্যাংকক শহর, থামাসাত ইউনিভার্সিটি ও হসপিটাল, প্রাচীন শহর অইথুইয়ার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্য পরিদর্শন, পাতায়া সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ, ভাসমান মার্কেট পরিদর্শন, কায়েংক্রাচাং ন্যাশনাল পার্ক পরিদর্শন করেন। আর পাচঁদিনব্যাপী সামাজিক উন্নয়নের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পূর্বের কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা তুলে ধরেন যুব সংগঠকরা। Vision Aid International এর সভাপতি হিসেবে Vision Aid International : An emerging beacon of hope for peaceful world শীর্ষক বিষয়ে উপস্থাপনা করেন রবিউল। বিশ্বের এক ঝাঁক মেধাবী ছাত্র এবং তরুণদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠায় টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশ এবং দেশের বাহিরের সুবিধা বঞ্চিত দেশের শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন, সমাজের অসংগতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সামাজিক আন্দোলন করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই তার লক্ষ্য। তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি যে আগামীদিনে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সম্ভাবনার আলো ছড়াবে এমন একটি আশার পথ দেখিয়েছেন তার উপস্থাপনায়। এই সম্মেলনে উপস্থাপনায় প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করায় উল্লসিত হয়ে উঠে বিভিন্ন দেশ থেকে আগন্তুক শিক্ষার্থীরা। তারা আনন্দে উত্ফুল্ল হয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে শ্লোগান দিয়ে মুখরিত করে তোলে সম্মেলনকে।