রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
নেচে গেয়ে অন্যরকম একটি দিন
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৩০
পরীক্ষা এখনও শুরু হয়নি। সবগুলো কোর্সের ক্লাস সবেমাত্র শেষ হতে চলেছে। এদিকে টিউটোরিয়াল, প্রেজেন্টেশন, ক্লাস টেস্ট, আর এ্যাসাইন্টমেন্টের ভারে ব্যস্ততার মধ্যে যাচ্ছে প্রতিটি মুহূর্ত। এরই মধ্যে পরে গেল ভিন্ন একটি দিন ১২ .১২. ১২! একাডেমিক ব্যস্ততার হাফ ছেড়ে বাঁচতে আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা ১২.১২.১২ তারিখে আয়োজন করল একটি অন্যরকম র্যাগ ডে। বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আফরিন চিন্তা করল র্যাগ ডে ১২ ডিসেম্বর উদযাপন করলে কেমন হয়। এই ভাবনাটি একই ব্যাচের অন্যান্য বন্ধুদেরকে জানানো হল। সবাই এতে সায় দিল। আর যেই ভাবা সেই কাজ।
সবাইকে বলের দেয়া হল বুধবার সকাল নয়টার মধ্যে বিজনেস ফ্যাকাল্টির সামনে উপস্থিত হতে। একটি বিশেষ দিনে র্যাগ ডে উদযাপনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগের দিন অর্থাত্ ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। ইমন, সোহাইব, উজ্জ্বল, কবির, সনম আফরিন আর জেনি মঙ্গলবার বিকেলে বিজনেস ফ্যাকাল্টির সামনের ফাঁকা জায়গায় আল্পনা এঁকে দেয়। এদিকে রাকিব, সজীব ও শাহী র্যাগ ডে’র জন্য টি শার্ট, রং, মার্কার পেন আর দুপুরের খাবার আয়োজনে রাত অবধি সময় কাটাল। ১২ ডিসেম্বর ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই সকল শিক্ষার্থী উপস্থিত। টি-শার্ট পরে আর গায়ে রং মেখে সবাই প্রস্তুত র্যালির জন্য। পরে বিজনেস ফ্যাকাল্টির সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে সিরাজী ভবন, প্যারিস রোড হয়ে সাবাস বাংলাদেশসহ পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। র্যালি চলাকালে শিক্ষার্থীরা নেচেগেয়ে পুরো ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখে।
অন্যদিকে শাওন, মাহবুব, হযরত রবিউল আবার তাদের বন্ধুদের শেষ মুহূর্তের ছবি ধারণ করতে ক্যামেরায় বার বার করছেন ক্লিক। সাবাস বাংলাদেশে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই ভেবে যে, আর কয়দিন পর আমাদের এই মতিহারের সবুজ ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে। সবাই সারিবদ্ধ হয়ে একে অপরের কাঁধে হাত রেখে ক্যাম্পাসে বন্ধুত্বের শেষ নিদর্শন হিসেবে সাবাস বাংলাদেশের সামনে একটি গ্রুপ ছবি উঠালো। পরে র্যালী শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। বিকেলে ক্যাম্পাসের ইবলিশ চত্বরে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের চার বছরের ক্যাম্পাসের ভাল ও খারাপ লাগা নানা অনুভূতি ব্যক্ত করেন। সেই সাথে চলে গান আর কৌতুক পরিবেশন। তমাল, রবিউল, মোনালিসা, শিহান বলেন, অনেকেই এই দিনটিকে নানা কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে স্মরণীয় করে রাখবে। আমরা এই দিনটিকে র্যাগ-ডে উদযাপনের মধ্য দিয়ে স্মরণীয় করে রাখলাম। সেই সাথে তারা আরো বলেন, ক্যাম্পাসে চার বছর কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারছি না। তবুও দীর্ঘ সময়গুলো ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে ভাবতেই গা শীতল হয়ে আসে। আজকের র্যাগ-ডে উদযাপনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস জীবনের ইতি টানতে হবে। একথাগুলো বলতে বলতে তমালের চোখে জল চলে আসে!