পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে লঞ্চ ধর্মঘট অব্যাহত, দুর্ভোগ চরমে

পটুয়াখালীতে লঞ্চ স্টাফকে মারধরের প্রতিবাদে লঞ্চ মালিক সংগঠনের ডাকা পটুয়াখালী-ঢাকা নৌ-রুটে অনির্দিষ্টকালের লঞ্চ ধর্মঘট গতকাল মঙ্গলবার ৬ দিনেও অবসান হয়নি। এ সময় পটুয়াখালী টার্মিনালঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোন লঞ্চ ছেড়ে যায়নি এবং ঢাকা থেকেও এখানে কোন লঞ্চ আসেনি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়া সত্ত্বেও লঞ্চ মালিক পক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। এ ঘটনার সুরাহা কিংবা ধর্মঘটের অবসান কবে হবে সে সম্পর্কে পটুয়াখালী নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ কিছুই বলতে পারছে না। এদিকে, বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় যাত্রী সাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পণ্য পরিবহন করতে না পারা ব্যবসায়ীদেরকেও। গত বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবন-৬ লঞ্চের সুপারভাইজার মোঃ ইউনুসের কাছে একদল সন্ত্রাসী ঘাট সুপারভাইজিংয়ের টাকা দাবি করে। তাদের এই অবৈধ দাবি মেনে টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা সুপারভাইজার ইউনূসকে বেদম প্রহার করে। এর প্রতিবাদে লঞ্চ মালিক সমিতি বৃহস্পতিবার থেকে এই রুটের সকল লঞ্চ চলাচল ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। এরপর এই ছয়দিন পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে কোন লঞ্চ চলাচল করেনি। পটুয়াখালী নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, নদী বন্দর কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গত সোমবার এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে লঞ্চ ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু লঞ্চ মালিক সমিতি ধর্মঘট প্রত্যাহারের কোন সিদ্ধান্ত তাদেরকে অবহিত করেননি। এদিকে এব্যাপারে লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি আবুল কালাম খান ইত্তেফাককে জানান, এই রুটে চলাচলকারী লঞ্চ মালিকদের সাথে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান এসপি মাহবুব উদ্দিনের (বীর বিক্রম) সাথে বৈঠক হয়েছে। আলোচনা হয়েছে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে। লঞ্চ সুপারভাইজারকে মারধরের ঘটনায় জড়িতকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত পটুয়াখালী ও গলাচিপা রুটে লঞ্চ ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।