উখিয়া হাসপাতালের শয্যা
বাড়লেও চালু হয়নি
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৩
উখিয়ার ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে আট মাস আগে। কিন্তু বর্ধিত হাসপাতালের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ফলে জরুরি ও বহির্বিভাগে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, জনবল ও আসবাবপত্রের অভাব এবং প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় এখনো হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র রাজাপালং বটতলী এলাকায় উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালে। শুরুতে এটি ১০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বর্ধিত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হাসপাতালটি ৩১ শয্যায় রূপান্তর করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও চিকিত্সা সেবার মান বাড়েনি। বিশেষ করে ডাক্তার ও নার্স সংকটের কারণে রোগীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের জন্য উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পাঁচটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও নিয়মিত ডাক্তার সংকট লেগেই ছিল। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এ বছরের জানুয়ারিতে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ছয় কোটি ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিন তলা ভবন বিশিষ্ট হাসপাতালটি গত এপ্রিল মাসে উদ্বোধন করা হয়।
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য মুহাম্মদ হানিফ আজাদ বলেন, হাসপাতালটি উদ্বোধনের পর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রিদওয়ান তারিন বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বেড না থাকায় অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিত্সা দিতে হয়। তিনি বলেন, নবনির্মিত হাসপাতালটি চালু হলে রোগীদের এ সমস্যায় পড়তে হতো না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস এম আবু সাঈদ জানান, জনবল, আসবাবপত্র ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সির্ভিল সার্জন ডা. কাজল কান্তি বড়ুয়া বলেন, হাসপাতাল চালু করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে।