গঙ্গাচড়ায় সবজি চাষ করে
কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৬
গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মান্দ্রাইন গ্রামের বেকার যুবক মানিক। এ বছর ১ একর ১৫ শতক জমিতে কপি লাগিয়েছে। কপি চাষে তার খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তিনি ৩ লাখ টাকার কপি বিক্রি করেছেন। আরো ১ লাখ টাকার কপি বিক্রি করা যাবে বলে তিনি জানান।
গঙ্গাচড়ায় এখন শীতের সবজির ব্যাপক সরবরাহ। ধানের পরিবর্তে সবজি চাষে কৃষকরা এবার ব্যাপক মুনাফা পাচ্ছেন। কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি।
গঙ্গাচড়ার উত্পাদিত সবজি এখন স্থানীয় বাজারসহ রংপুর শহরে সরবরাহ হচ্ছে প্রতিদিন। খুব সকালে রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই চোখে পড়ে রংপুরের সবজি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। রিক্সা কিংবা ভ্যানে করে এসব সবজি সরবরাহ করা হয়। কৃষকরা নিজে কিংবা পাইকারের মাধ্যমে সবজি বিক্রি করছেন। স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে শীতের সবজির ব্যাপক সরবরাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে দাম কিছুটা চড়া বলে সাধারণ লোকজন জানান। সরেজমিনে উপজেলার চেংমারী, মান্দ্রাইন, নবনীদাস এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিগন্ত জুড়ে শীতের সবজির সমারোহ। কৃষকরা সবজি ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে মাঠে কাজ। দম ফেলার সময় নেই। কেউ বা কপি, লাউ ও বেগুন ক্ষেতে সেচ দিচ্ছেন ও কেউ বা সেপ্র করছেন। ক্ষেত পরিচর্যা করছেন অনেকে।
সবজির গ্রামে এখন কৃষকের মুখে হাসি। স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক। চেংমারী গ্রামের লাইবুল জানান, তিনি এ বছর ১৮ শতক জমিতে বাঁধা কপি চাষ করেছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি ২৩ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছেন। কপি চাষে তার খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, জমিতে ধান আবাদ করলে ৫-৬ হাজার টাকার ধান পাওয়া যেত। এরপরে তিনি ঐ জমিতে আলু লাগাবেন। মান্দ্রাইন গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ২২ হাজার টাকা দিয়ে ৬৬ শতক জমি লীজ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩ শতক জমিতে বেগুন ও ৩৩ শতকে ফুল কপি লাগিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি ১৫ হাজার টাকার ফুল কপি ও ৩০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। এরপরেও ঐ জমিতে আরো ১৫ হাজার টাকার ফুল কপি ও ৩০ হাজার টাকার বেগুন উত্পাদন হবে বলে তিনি আশাবাদী। ঐ গ্রামের আব্দুল হামিদ ৫০ শতক জমিতে কপি, ৫০ শতক জমিতে বেগুন ও ৪০ শতক জমিতে মুলা লাগিয়েছেন। এরমধ্যে তিনি ৫০ শতক জমির বাঁধা কপি ও ফুল কপি প্রায় ১ লাখ টাকা এবং ৩০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। এ সময় কৃষকরা বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর সবজির দাম একটু বেশি। গঙ্গাচড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ফুল কপি ৩০ টাকা কেজি, বেগুন ২০ টাকা কেজি, মুলা ১২ টাকা কেজি, বাঁধা কপি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর খরিপ-২ মৌসুমে ৭০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এ বছর কৃষকরা ধানের পরিবর্তে সবজি আবাদ করে মুনাফা পাচ্ছেন ভাল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইখুল আরেফিন জানান, চেংমারী এলাকার মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ায় তা সবজি চাষের উপযুক্ত।