২২ হাজার কোটি টাকার
মেট্রোরেল অনুমোদন
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৭
২২ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের আওতায় উত্তরা থেকে পল্লবী ও সোনারগাঁ হোটেল হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলিভেটেড রেল লাইন নির্মাণ করা হবে। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় গতকাল প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, ঢাকা মহানগরীতে প্রথম মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ ও পরিচালনার মাধ্যমে যানজট হ্রাস এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোই মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্প ব্যয় হবে ২১ হাজার ৯৮৫ হাজার কোটি টাকা। রেল লাইন নির্মাণ কার্যক্রম তিনটি পর্যায়ে বাসতবায়ন করা হবে। এর মধ্যে পল্লবী-সোনারগাঁও হোটেল অংশ ২০১৯ সালের মধ্যে, সোনারগাঁও হোটেল-মতিঝিল অংশ ২০২০ সালের মধ্যে এবং উত্তরা-পল্লবী অংশ ২০২২ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রজেক্ট নামের মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রায় ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকার অর্থের যোগান দেবে জাপান সরকার। যা প্রাক্কলিত মোট ব্যয়ের ৭৬ শতাংশ। বাদবাকী ব্যয় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে।
সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আব্দুল মান্নান হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, সভায় মোট ২৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৪০২ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে পাওয়া যাবে এবং ৬ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে।
সভায় ‘কোস্টাল ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট’ নামের অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর আওতায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী ১২টি জেলায় জলবায়ু সম্পর্কিত অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার গ্রামীণ দারিদ্র্য দূর করে জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন করা হবে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার সুবিধা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্ততবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৯৭৪ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানি সম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ সেনসহ একনেক-এর সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।