হুরা সাগর পাড়ে এলেই মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৬
জেলার অন্যতম এ উপজেলা শহরে কোন বিনোদন কেন্দ্র কিংবা শিশুদের জন্য কোন পার্ক নেই। বহু বছর ধরে এ শহরে মানুষ পার্ক ও উদ্যানের জন্য প্রতীক্ষায় থাকলেও সে প্রতীক্ষা বা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই বলে কি ঘরে বসে সময় কাটাবে নগরবাসী ? মোটেই না। অবকাশের সময়টুকু কাটাতে নগরবাসী হুরাসাগর নদীর পারে পরিত্যক্ত বেড়া আধুনিক নৌ-বন্দর (পোর্ট) কে বেছে নিয়েছেন। মন আর গা জুড়াতে প্রতিদিন এখানে সমবেত হয় বহু মানুষ। শান্ত স্রোতধারার হুরা সাগর নদী। নদীর এ পারে দক্ষিণে শান্ত অবরুদ্ধ ইছামতি নদী। মাঝখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। তার উত্তরে হুরা সাগর নদী। নদীর ওপারে গাছপালা সুশোভিত সুন্দর গ্রাম। বর্ষায় গ্রামের বাড়িগুলোকে একেকটি দ্বীপের মত দেখায়। পড়ন্ত বিকেলে হুরা সাগরের পানিতে অন্তগামী সূর্যের নয়নাভিরাম লাল আভা মানুষকে বড়ই আকর্ষণ করে। আর শুকনো মৌসুমে সবুজ ধান ক্ষেত, নির্মল বায়ু গ্রহণ নদীর জলরাশি দিয়ে পাল তোলা নৌকার নিরব যাতায়াত অবসর বিনোদনের আমেজে নানান বয়সী মানুষ এসে এখানে ভিড় করেন। বেড়া ডাকবাংলা ঘাটের অদূরে পশ্চিমে এবং বেড়া থানার পেছনে হুরা সাগর ও ইছামতির সঙ্গমস্থলে বেড়া পোর্টের অবস্থান।
পরিত্যক্ত এ পোর্টে ১০০ মিটার দৈর্ঘের দুটি গাইড বাঁধ। মূল বাঁধ থেকে উত্তরদিকে নদী বরাবর গাইড বাঁধ দুটি চলে গেছে। বাঁধ দুটির তিন পাশেই সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধানো, যাতে ঢেউয়ের ঝাপটা পড়ছে অনবরত। দুই গাইড বাঁধের মাঝে পৌনে তিনশত মিটার লম্বা (তিনদিক থেকে) অসংখ্য সিঁড়ি। নদীর তলদেশ থেকে শুরু করে বাঁধের উপরিভাগ পর্যন্ত এই সিঁড়ি যেকোন মানুষের দৃষ্টি কাড়বে। মূল বাঁধের দক্ষিণে অবরুদ্ধ ইছামতি নদী। মুক্ত বাতাস, খোলা আকাশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিকালে এখানে বহু দর্শনার্থী ভিড় করেন। শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গ্রাম- গ্রামান্তর থেকে এখানে মানুষ আশে।