শ্রীনগরে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে চলছে পাঠদান

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে একটি বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে আতঙ্কের মধ্যে পাঠগ্রহণ করছে। এতে তাদের যথাযথ শিক্ষালাভ হচ্ছে না। উপজেলার সদারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ৬ বছর আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ৩টি কক্ষই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে লাল রংয়ের ফিতা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ও ছাদের বিমগুলো থেকে পলেস্তারা খসে গিয়ে রড বেরিয়ে এসেছে। যে কোনো সময় পলেস্তারা খসে পড়ে এমনকি বিম ধসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ভবনের ফ্লোরের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় আরো ভয়ংকর ঝুঁকির মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভবনটি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩১৯ জন, বর্তমানে শিক্ষক আছেন ৬ জন, শিক্ষকের ২টি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে ভবনের ছাদ ভেঙে পড়ে। বৃষ্টির দিনে ভয়ে অনেকে স্কুলে আসে না। সহকারী শিক্ষক সুভাগ্য চন্দ্র মন্ডল বলেন, একাধিকবার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিত আবেদনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে ভবনটি কয়েক বছর পূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষণাও করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করা হলেও এখনো ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সদারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মাসুদ পারভেজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিস ও ইউএনও অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গেলে শিক্ষা অফিসারকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করবো। আপাতত অস্থায়ীভাবে পাঠদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নতুন ভবন নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।