মিরসরাইয়ের নিচিন্তা আদিবাসীপাড়া
শিক্ষার্থীদের লড়াই প্রতিনিয়তই
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৮
মিরসরাই উপজেলার একটি আদিবাসী পাড়ার নাম নিচিন্তা আদিবাসী পাড়া। পাড়াটির অবস্থান উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নে। পাড়ার শিশু শিক্ষার্থীরা নিত্যদিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা মাঝে মাঝে তাদের কাছে সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়ায়। অদম্য ইচ্ছা মনে জাগলেও পূরণের কোটা অনেক সময় ঠেকে শূন্যে। তবুও হাল ছাড়ার মন্ত্র তারা শিখেনি, জীবনের কষাঘাতে পরতে পরতে দুঃখ-কষ্ট তাদের পিছু ছাড়ে না। এক সময় মনের মাঝে আঁকা শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকার থেকে ছিটকে পড়ে। পাহাড়ি পথ বেয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হয় তাদের। নেই কোন চলাচলের রাস্তা, জমির সরু আইল পথ হয়ে কিংবা পাহাড়ি ছড়া পেরিয়ে নানা সংগ্রাম করে তাদের যেতে হয় বিদ্যালয়ে। তবে কখনো কখনো তাদের এই কষ্টের পাড়ি দেয়া পথ বিফল হয়ে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাড়ার শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ছুটে চলছে পাহাড়ি ছড়া পেরিয়ে। এ সময় কথা হয় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী উঠান রায়, অনিল ত্রিপুরা, তৃতীয় শ্রেণীর হিরেন্দ রায়, খোকন ত্রিপুরা, মনবালা ত্রিপুরা, সোনালক্ষ্মী ত্রিপুরা, রবি ত্রিপুরার সাথে। তারা বলে, প্রতিদিন তাদের পাহাড়ি ছড়া, জমির সরু আইল পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টারও বেশি। বর্ষা মৌসুমে এই কষ্ট আরো বেড়ে যায়। তখন পাহাড়ি ঢলের কারণে ছড়ার পানি বেড়ে গেলে জামা-কাপড়, বইপত্র ভিজে যায়। তারা সরকারের কাছে আবেদন জানান, সরকার যেন তাদের অন্তত চলাচলের জন্য রাস্তা করে দেয়।
নিচিন্তা আদিবাসী পাড়ার সর্দার কৃষ্ণ কুমার ত্রিপুরা জানান, প্রতিদিন ৬৫ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ২ জন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যায়। পাশাপাশি দুইটি পাড়া উজাইল্লা আদিবাসী পাড়া ও নিচিন্তা আদিবাসী পাড়ার শিক্ষার্থী এরা। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা।
পাশাপাশি দুইটি পাড়া থেকে বিদ্যালয়মুখী ৬৫ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে শিশু শ্রেণীতে ৯ জন, প্রথম শ্রেণিতে ২৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৩ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫ জন, পঞ্চম শ্রেণিতে ২ জন।
নিচিন্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নূর নবী জানান, বর্ষাকালে পাহাড়ি জনপদ বেয়ে আসতে পারে না শিক্ষার্থীরা। আবার এদের অধিকাংশরাই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ঝরে পড়ে। শিক্ষার্থীদের মা-বাবা তাদের জুম চাষে নিয়ে যায়।