মহেশপুরের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা
মাহাতাব এখন চা বিক্রেতা
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৯
মহেশপুরের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব এখন চা বিক্রেতা।
উপজেলার জলিলপুর গ্রামের মৃত পাচু মণ্ডলের ৮ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ২য় পুত্র মাহাতাব উদ্দীন। এখন তার বয়স ৭৪ বছর। মহেশপুরের পুরাতন সোনালী ব্যাংক চত্বরে নিজ চায়ের দোকানে বসে চা বিক্রি করেন। আলাপকালে তিনি বলেন, ভারতে ট্রেনিং শেষ করে ৮ নং সেক্টরের আওতায় যুদ্ধ করেন। হুসোরখালী ও দত্তনগর দুই জায়গায় সন্মুখযুদ্ধে একবার হাতে এবং একবার পায়ে গুলি লাগলেও কোনরকমে প্রাণে বেঁচে যান মাহাতাব। যুদ্ধের সময় তার সার্বক্ষণিক সহযোদ্ধা ভালাইপুর গ্রামের রওশন আলী গুলি লেগে মারা যান। তাকে পানি খাওয়াতে গিয়ে নাটিমা গ্রামের আজিজুল ওরফে পুটেও পাকহানাদার বাহিনীর গুলিতে মারা যান। আজ পর্যন্ত তাদের কেউ খোঁজ রাখেনি। ভাটপাড়া গ্রামের সানোয়ারকে হানাদার বাহিনী জীবন্ত ধরে নিয়ে গেলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আহত হয় ইসাহাক, সাধন, রশিদসহ আরো অনেকে। মাহাতাব আরো জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোরে গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে তিনি ৬ জন সঙ্গী নিয়ে প্রথম মহেশপুর শহরে ঢোকেন এবং মহেশপুরকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন।
মাহতাব জানান, দেশ স্বাধীনের পর থেকে মানবেতর জীবনযাপন করেছি। এমনকি মহেশপুর শহরে ভ্যান চালিয়ে জীবনধারণ করতে হয়েছে। বয়সের ভারে এখন আর ভ্যান চালাতে না পেরে চায়ের দোকান দিয়ে কোনরকমে সংসার চলছে। অতি দুঃখের সাথে তিনি বললেন, বছরে দুইবার আমাদের খোঁজ নেয়া হয়। আর সারা বছর কেউ কোন খোঁজ-খবর রাখে না।