বরগুনায় বাদী পক্ষকে ঘায়েল করতে নিজ ঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযাগ

খুনের মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নিজ বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে বাদীপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ঐ মামলার বাদীপক্ষ ভিত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী গ্রামে। গত বছরের ১৩ আগস্ট বিমানবন্দর থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে মনসাতলী গ্রামের বাসিন্দা সিভিল এভিয়েশনের পরিচালকের গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানায় হত্যা মামলা হয়। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নিহতের স্ত্রী মুক্তা জাহানকে গ্রেফতার করা হয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মুক্তা জানান, মনসাতলী গ্রামের লতিফ ডাক্তারের ছেলে জসিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। জসিম ও তার বন্ধু মাহবুব মিলে জাহাঙ্গীরকে হত্যা করে। জসিম আজও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মুক্তা বর্তমানে জামিনে মুক্ত এবং মাহবুব কারাগারে রয়েছে। নিহত জাহাঙ্গীরের ভাই মনসাতলী গ্রামের ওসমান গনি খান অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি জসিমের পিতা সৌদি প্রবাসী লতিফ ডাক্তার গত এক মাস পূর্বে দেশে আসেন এবং তাদের হুমকি-ধমকি দেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি নিজের ঘরে আগুন দেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুড়ে যায় লতিফ ডাক্তারের পরিত্যক্ত বসতঘর। আশপাশের নারিকেল, মেহগিনি, সুপারিসহ অন্যান্য গাছপালা পুড়ে যায়। এলাকাবাসী জানায়, এ সময় লতিফ ডাক্তারের পরিবার ঐ ঘরে ছিলেন না। এমনকি তারা গত দেড় বছর ধরে ওই ঘরে বসবাসও করেন না। পরদিন শুক্রবার সকালে লতিফ ডাক্তার বিষয়টি বরগুনা থানাকে অবহিত করেন। বরগুনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) আবদুল খালেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় লতিফ ডাক্তারের স্ত্রী নাছিমা বেগম গতকাল মঙ্গলবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে নিহত জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর ও ভাতিজা মিজানের নাম রয়েছে। লতিফ ডাক্তার এ ব্যাপারে জানান, তার ছেলেকে জাহাঙ্গীর খুনের মামলায় জড়ানো হয়েছে। এবার তারা আক্রোশবশত আমার ঘরে অগ্নিসংযোগ করে।