আজ মুক্ত হয় যেসব এলাকা

১৬ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পাকবাহিনী আত্মসর্ম্পন করার পরও অনেক এলাকায় তাদের অবস্থান থেকে যায়। এসব এলাকা যেভাবে মুক্ত হয়েছিল তা নিয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা ভৈরব (ব্রাহ্মনবাড়িয়া) আজ ১৯ ডিসেম্বর ভৈরব মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নিরাপদে ঢাকা পাঠানোর শর্তে প্রায় ১০ হাজারের উপর পাক হানাদারের বিশাল বাহিনী নিয়ে ব্রিগেডিয়ার সাদুল্লাহ রেলওয়ে স্টেশনে মিত্র বাহিনীর মেজর মেহতার কাছে আত্মসর্মপণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ লাভ করে ভৈরববাসী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তত্কালিন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সায়দুল্লাহ মিয়া, ভৈরব আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শহীদ লুত্ফুল হাই সাচ্চু। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদসহ কয়েক হাজার ভৈরববাসী আত্মত্যাগের বিনিময়ে লাভ করে ভৈরবের এ স্বাধীনতা। ভাটিয়াপাড়া (গোপালগঞ্জ) ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশবাসী মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত হলেও তত্কালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার কাশিয়ানী থানার ভাটিয়াপাড়া সেদিন স্বাধীন হয়নি। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভাটিয়াপাড়া রেল জংশনের পাশে যোগাযোগের জন্য শক্তিশালী ওয়ারলেস থাকায় এখানে পাকিস্তানি মিলেটারীরা যুদ্ধের জন্য চারতলা বিশিষ্ট বাংকার করেছিল। ২৫ মার্চ যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মেজর হুদার নেতৃত্বে এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর সাথে মোকাবিলা করে আসছিল। তবে পাকসেনাদের ভারি অস্ত্রের কাছে মুক্তিযোদ্ধারা পেরে উঠছিল না। ১৯ ডিসেম্বর সকাল থেকেই গামা বাহিনীর নেতৃত্বে চারদিক থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। সেদিন পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানার মালা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত হোসেন শহীদ হন। আহত হন মাগুরার বীর মুক্তিযোদ্ধা কমল সিদ্দিকী।