বিবিয়ানা বিদ্যুত্ স্থাপনা কেন্দ্রে বিক্ষোভ, ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় আহত ৮

নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকুল গ্রামে অবস্থিত বিদ্যুত্ স্থাপনা কেন্দ্র বিবিয়ানা প্রকল্পে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় ১০ গ্রামের হাজার হাজার লোক বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সাথে স্থানীয় জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ৮ জন আহত হয়। গুরুতর আহতরা হলো- সাজ্জাদ হোসেন, জামাল মিয়া, আলা মিয়া, আতাই উল্লাহ। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে বিবিয়ানা বিদ্যুত্ প্লান্টে প্রায় ২ ঘণ্টা কাজ বন্ধ থাকে। বিক্ষোভ চলাকালে বিদ্যুত্ প্লান্টের সিনিয়র কর্মকর্তারা মোবাইল ফোন বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। এলাকাবাসী ও বিক্ষোভকারীরা জানান, উপজেলার ওই স্থানে বিবিয়ানা বিদ্যুত্ স্থাপনা কেন্দ্র প্রকল্পের কাজ চলা অবস্থায় গত শনিবার ভোরে স্থানীয় ১০টি গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম শেরপুর থেকে বিবিয়ানা বিদ্যুত্ প্লান্টের উপর দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।ওই দিনই এলাকার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে রাস্তাটি খুলে দেয়। পরে বিবিয়ানা বিদ্যুত্ প্লান্টের কর্তৃপক্ষ অবস্থা বেগতিক দেখে জনতার সাথে সমঝোতা করতে বসলেও সুরাহা না হওয়ায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আউশকান্দি ও দীঘলবাক ইউনিয়নের প্রায় ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আবারো বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে ও মখদ্দুস মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউপি মেম্বার ফয়জুল হক, হাজী কাপ্তান মিয়া, সেফুল দেবনাত, সিদ্দেক আলী, মো. উস্তার আলী, হাজী আব্দুল তাহিদ, শাহজাহান মিয়া, শিক্ষক আব্দুল গনি, ডা. আনছার মিয়া, হাজী রফিক মিয়া, সুজন মেম্বার, ফখরু মেম্বার প্রমুখ। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাদের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তাটি পাকাকরণ, তাদের ছেলে-মেয়েদের বিবিয়ানা বিদ্যুত্ প্লান্টে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি, আশপাশ এলাকার কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুত্ সংযোগসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জানায়। অন্যথায় বিবিয়ানা বিদ্যুত্ প্লান্টের সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়।