চূড়ান্ত হয়নি মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সংশোধনী

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দীর্ঘসূত্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিধিমালার সংশোধনীর খসড়া অনুমোদন করে জনমত জরিপের পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সংশোধনী প্রকাশ করতে পারেনি এসইসি। যদিও জনমত যাচাইয়ের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সংশোধনী প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছিল। গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশনের ৪৪৪তম সভায় মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সংশোধনীর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ১০টি সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সংশোধনীর খসড়া অনুমোদনের পর সেকেন্ডারি মার্কেটে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বেশ ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। হঠাত্ করে চাঙ্গা হয়ে উঠে এ খাতটি। এদিকে সংশোধনীটি কমিশন সভায় অনুমোদনের ২০ দিন পর ২ অক্টোবর তা জনমত যাচাইয়ের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। অনুমোদনের পর জনমত যাচাইয়ে এতো বিলম্বে খসড়াটি প্রকাশ করা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, সময়ক্ষেপণ করায় প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়ে যায়। এতে একটি গোষ্ঠী লাভবান হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। এ ধরনের নানা সমালোচনা ও অভিযোগের মুখে গত ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত খসড়া সংশোধনীর ওপর জনমত জরিপ যাচাই শেষ হলেও এখন পর্যন্ত খসড়া সংশোধনী চূড়ান্ত করতে পারেনি এসইসি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, লভ্যাংশ হিসাবে বোনাস শেয়ার ইস্যুর বিষয়টি নিয়ে দোটানায় পড়েছে এসইসি। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের কাছে এ বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়ার পর তারা মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের আকার বাড়ানোর সুযোগ না দেয়ার পক্ষে তাদের মতামত দেন। এমনকি দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকেও মেয়াদি ফান্ডের আকার বাড়ানোর সুযোগ দেয়ার বিরোধিতা করা হয়। আর এ কারণে দুই মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও এসইসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। একদিকে বিশেষজ্ঞদের মতামত অপরদিকে এ ধরনের সুযোগ দেয়া না হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আবারও দর পতনের আশঙ্কা। এ অবস্থায় এসইসি উভয় সঙ্কটে পড়েছে। তাই এ বিষয়ে এসইসি’র দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।