মংলা বন্দরে ধ্বংস করা হচ্ছে
২৪০ টন পোস্তদানা
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৮
দীর্ঘ ৪ বছর ধরে মংলা বন্দরে পড়ে থাকা নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় দ্রব্য তৈরির উপকরণ ২৪০ মেট্রিক টন পোস্ত দানা অবশেষে ধ্বংস করে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই নিষিদ্ধ পণ্যের ওই চালানটি ধ্বংস করা হতে পারে বলে বন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। এ জন্য মংলা কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনারকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে আরও আছেন মংলা কাস্টমস হাউসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা, একজন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, কোস্টগার্ড, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রথম শ্রেণীর একজন করে কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধি।
সূত্র জানায়, নেপালের এক ব্যবসায়ী এই ২৪০ টন পোস্ত দানার মালিক। তিনি নেপালের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নেয়ার জন্য ২০০৮ সালে বাংলাদেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করেন। নেপাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারত হয়ে পোস্তদানার চালানটি নেপালে যাওয়ার কথা। এ উদেশ্যেই এটি মংলা বন্দরে আনা হয়। এরপর সেখান থেকে ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সে সময় ভারতের কাস্টমস বিভাগ পোস্তদানার চালানটি ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। কারণ ভারতেও এই পণ্যটি নিষিদ্ধ। যে কারণে পোস্তদানার পুরো চালান মংলা বন্দরে আটকে থাকে।
এদিকে মংলা বন্দরে আটক পোস্তদানা ছাড়িয়ে নিতে দেশীয় একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন কায়দায় এই আটক চালান যাতে ধ্বংস না করা হয়, সেজন্য নানা তত্পরতা শুরু করে। সর্বশেষ তথ্য মতে, আটক পোস্তদানা খোলা বাজারে বিক্রি করা যায় কিনা এ ব্যাপারে সমপ্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওই চিঠির উত্তরে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ এই পণ্য সরকার কর্তৃক খোলাবাজারে বিক্রির অনুমতি দেয়া যায় না।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিচালক মাহবুব উল্লাহ জানান, আটক ৮ কন্টেইনার পোস্তদানার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৯ কোটি টাকা। চলতি ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে পোস্তদানার এ চালানটি ধ্বংস করা হতে পারে।