জাতিসংঘে শেখ হাসিনার ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ প্রস্তাব পাস
শহীদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৭
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘পিপলস এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে সাধারণ অধিবেশনের এক সভায় ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সমর্থনে এটি রেজুলেশন আকারে পাস হয়। ব্যক্তিবিশেষের অভিজ্ঞতাভিত্তিক এমন প্রস্তাব পাস হওয়ার নজির খুব কম।
জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নির্যাস তুলে ধরে তৃণমূলের প্রান্তিক জণগোষ্ঠী, সমাজের অবহেলিত জনগণ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সবার ক্ষমতায়ন, আত্মউন্নয়ন এবং সক্ষমতার বিকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্র-সরকার পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ দিক-নির্দেশনা রয়েছে এই প্রস্তাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই তত্ত্বটি জাতিসংঘের সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ায় তিনি যে ‘জননেত্রী’ তার আরেক দফা স্বীকৃতি মিলেছে। রাষ্ট্র এবং সরকার জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণে—এই দর্শনের মূলমন্ত্র হচ্ছে শেখ হাসিনার ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এই তত্ত্বটি। ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বিষয়ক দু’টি প্রস্তাব পাস হওয়ায় ড. মোমেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানান। প্রেস ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন মিশনের প্রেস সচিব মামুন-অর-রশিদ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. মোমেন জানান, জাতিসংঘের ৬৬ এবং ৬৭তম সাধারণ অধিবেশনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ (এমপাওয়ারিং পিপলস) তত্ত্ব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সমাজ-রাষ্ট্রের সাতটি বিশেষ উপাদানের আন্তঃসম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তত্পরতার মাধ্যমে মানুষের আত্মউন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং শান্তি নিশ্চিত করার কথা বলেন। এই তত্ত্বে মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই, বৈষম্য নিরসন, বঞ্চনা রোধ, সকলের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে সমাজের বিশেষ নজরে আনা, শ্রমবাজারে আগতদের দক্ষ করে গড়ে তোলা, শিক্ষার প্রসার এবং শ্রেণী বিভাজনভিত্তিক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সামগ্রিকভাবে গোটা জনগোষ্ঠীর সরকার পরিচালনায় ভূমিকা রাখার প্রয়াস চালানো এবং তাদের আন্তর্জাতিক আইন মান্য করার পাশাপাশি সকল ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামী করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
ড. মোমেন আরো জানান, জাতিসংঘের ৬৬ এবং ৬৭তম অধিবেশনে উপস্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই তত্ত্ব জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তখন ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এই তত্ত্বে আরো বলা হয়, মানুষের আত্মউন্নয়ন হলে সে যেকোন ধরনের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে পারে। এর আগে গত আগস্ট মাসে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক ঢাকা সম্মেলনে ৭টি কর্ম অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিত বিবেচনায় ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচন, বৈষম্য নিরসন, বঞ্চনা প্রতিরোধ, ব্যাপক কর্মসংস্থান, সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের বিশেষ নজরে আনা, মানব উন্নয়ন, সন্ত্রাস প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও অনুসিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দেশ-বিদেশে এই সম্মেলন তখন বিপুল সাড়া জাগায়। এতে পৃথিবীর উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের ৫৬ দেশের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন পৃথিবীর ২০টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক ঢাকা সম্মেলনে যোগদান করেন। এদিকে শান্তির সংস্কৃতি বিষয়ক আরেকটি বাংলাদেশ প্রস্তাব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।