হকিতে বিদেশি কোচ পাচ্ছে বাংলাদেশ

হকি ফেডারেশন চাইছে সম্ভাব্য কোচকে পুরো সময়ের জন্য রেখে দিতে। কিন্তু এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ) জানিয়েছে ব্যয়ভার বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। হকি ফেডারেশনও এ ব্যয়ভার বহন করতে রাজি। স্পোর্টস রিপোর্টার বিদেশি কোচ খুঁজছিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। কিন্তু কোনো ভাবেই তা হচ্ছিল না আর্থিক সংকটের কারণে। এবার দৃশ্যতই সে অভাব পূরণ হতে যাচ্ছে। কেননা আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স দেখে সন্তুষ্ট। তাই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আরো উন্নত করার জন্য বিদেশি কোচ পাঠাতে চায় তারা। তবে এ কোচ কোন দেশের হবে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিদেশি কোচ পেলে বাংলাদেশ কিভাবে তাকে কাজে লাগাবে এবং জাতীয় হকি দল নিয়ে বাংলাদেশের কী পরিকল্পনা রয়েছে তা জানতে চেয়েছে বিশ্ব সংস্থা এফআইএইচকে। তবে তারা জানিয়ে দিয়েছে বিদেশি কোচ দেয়া হলে তার থাকা-খাওয়া এবং গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। হকি ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়ে এফআইএইচকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন বলে গতকাল জানান। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন থেকে বাংলাদেশকে ১৬ মাসের জন্য কোচ দেয়া হবে। তবে তিনি যাওয়া আসার মধ্যে কাজ করবেন। এই সময়ে তিনি ছয়বার আসা যাওয়া করবেন। প্রতিবার থাকবেন ১২ দিন করে এবং জাতীয় হকি দল নিয়ে ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যে থাকবেন। হকি ফেডারেশন চাইছে সম্ভাব্য কোচকে পুরো সময়ের জন্য রেখে দিতে। কিন্তু এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ) জানিয়েছে ব্যয়ভার বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। হকি ফেডারেশনও এ ব্যয়ভার বহন করতে রাজি। তবে তাদের জানতে হবে কত টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে দিতে হবে। এ ব্যাপারে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রহমতউল্লাহ বলেছেন আমরা দেখব পারিশ্রমিকটা বহন করতে পারব কিনা। পারিশ্রমিক নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে নির্ধারিত ১২ দিনের বাইরে বিদেশি কোচকে বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক হকি দলগুলোর জন্য প্রশিক্ষণের জন্য কাজে লাগাবেন। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন বাংলাদেশসহ পাঁচ মহাদেশের একটি করে দেশকে বিদেশি কোচ দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে এশিয়া থেকে বাংলাদেশকে বেছে নেয়া হয়েছে। কোন দেশ থেকে কোচ আসবেন জানতে চাইলে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক জানান অস্ট্রেলিয়া এবং হল্যান্ডের কোচ পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে অসম্মতি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন। সংস্থাটি চায় সংশ্লিষ্ট দেশকে তাদের মহাদেশের কোচ পাঠাতে চায়। যদি সেরকম কাউকে না পাওয়া যায় তাহলে বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনা করা হবে। শেষ বার জার্মানি কোচ গের্হাড পিটার ছিলেন জাতীয় হকি দলের দায়িত্বে। কিন্তু তার পারফম্যান্সে সন্তুষ্ট হতে পারেনি ফেডারেশন। পিটারের বিদায়ে পর বছর দুই ধরে স্থানিয় কোচ মাহবুব হারুন জাতীয় হকি দলের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এদিকে বিদেশি কোচকে স্থায়িভাবে রাখার জন্য স্পন্সর খুঁজছে হকি ফেডারেশন। জনতা ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। একটা প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে ৯০ লাখ টাকার একটা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে ফেডাশেন সূত্রে জানা গেছে এ ব্যাপারে এখনও সাড়া মেলেনি।