আনন্দের রঙ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিলাম :কাজী রোজী

বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪১৯ পেলেন কবি কাজী রোজী। কবিতাকে আশ্রয় করে তিনি উপেক্ষিত, নিপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা বলেছেন। তার লেখায় তুলে ধরেছেন নারীর জীবন সংগ্রাম, যুগিয়েছেন প্রেরণা। বাংলা সাহিত্যে কবি কাজী রোজীর এই বলিষ্ঠ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে তার দীর্ঘ ৫৫ বছরের এই কবিতা-যাত্রাকে সম্মান জানিয়ে পাক্ষিক অনন্যা এই সম্মাননা প্রদান করলো। পাক্ষিক অনন্যা বাংলা ১৪০১ সাল থেকে নারীর বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর একজন কৃতী সাহিত্যিক বা সাহিত্য গবেষককে এ পুরস্কার প্রদান করে আসছে। পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে কাজী রোজী বলেন, আমি আপ্লুত। এই আনন্দঘন পরিবেশ আমাকে নিয়ে, আমাকে ঘিরে — আমার এই আনন্দের রঙ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিলাম। মনে হচ্ছে এই পুরস্কার আমাকে নগণ্য থেকে অসাধারণ, অনন্য করে তুলেছে। গতকাল বুধবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আনন্দমুখর অনুষ্ঠানে কবিকে এই সম্মাননা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে সম্মানী বাবদ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয় তার হাতে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক কাজী রোজীর হাতে এ পদক তুলে দেন। অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি বেলাল চৌধুরী ও কবি রুবী রহমান এমপি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কবি কাজী রোজী। তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন রীআ মাহমুদ। পুরস্কার প্রদান পর্ব শেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সৈয়দ শামসুল হক বলেন, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার এদেশের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য পুরস্কারগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে এ পুরস্কার তার মর্যাদা ধরে রাখতে পেরেছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি কাজী রোজী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কবিতা সংকেতে কথা বলে, কাজী রোজীর কবিতায় সেই সংকেত রয়েছে যা পাঠকের হূদয়কে আলোড়িত করে। তিনি বলেন, কবিতা মাত্রই অনুপ্রাণিত সংলাপ। বাংলাদেশে সংলাপকে কবিতায় রূপান্তরের প্রয়াস কাজী রোজী ছাড়া আর কারো মাঝে তেমন দেখা যায় না। কবি কাজী রোজী মানুষের চিন্তার সংকট, নারী মুক্তি, স্বাধীনতা, জীবন সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ — এসব কিছু থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে কবিতায় তুলে এনেছেন। কবি বেলাল চৌধুরী বলেন, কবি-সাহিত্যিককে সম্মাননা দেয়া পাক্ষিক অনন্যার একটি বড় উদ্যোগ। নারীর সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতির জন্য এ পুরস্কার একটি বড় পৃষ্ঠপোষকতা। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে নারীর কাজকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়। সেই তাচ্ছিল্য উপেক্ষা করে যে নারী এগিয়ে এসে নিজের কাজকে তুলে ধরেন তাকে সম্মান জানানো উচিত। সমাজের সামনে কৃতী নারী ব্যক্তিত্বদের তুলে ধরে, সম্মানিত করে পাক্ষিক অনন্যা সেই কাজটিই করছে। কবি রুবী রহমান বলেন, কাজী রোজী তার সাহিত্য চর্চায় মানুষের জীবন সংগ্রাম, বঞ্চিত, শোষিত মানুষের কথা তুলে এনেছেন। সমাজে কবিদের প্রাপ্য সম্মান দেয়া হয় না। কিন্তু একজন কবি নিজে থেকে সমাজ বদলের দায়িত্ব তুলে নেন। নিজেকে নিবেদন করেন মানুষের জন্য সাহিত্যকে আশ্রয় করে। কোন কিছুর প্রত্যাশা না করেই। কবি কাজী রোজীও কোন প্রত্যাশা নিয়ে সাহিত্য অঙ্গনে পা রাখেননি। কিন্তু তার সেই নিবেদন মর্যাদা লাভ করেছে। তিনি পাঠকের হূদয়ে আশ্রয় পেয়েছেন। এটা খুব বড় প্রাপ্তি। অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, কাজী রোজী সংগ্রামী মানুষ। প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে চলেছেন। কিন্তু সাহিত্যে তার দীর্ঘ ধারাবাহিক পথচলা। যেখানে তিনি নারী জাগরণ, নারী মুক্তির কথা বলেছেন। তুলে ধরেছেন শোষিত-নিপীড়িত মানুষের কথা। সমাজকে এগিয়ে নিতে তার এই দীর্ঘ পথচলাকে স্বীকৃতি দিতে পেরে অনন্যাও সম্মানিত বোধ করছে। বাংলা ১৪০১ সালে চালু হওয়া এখন পর্যন্ত অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার যারা পেয়েছেন তারা হলেন- সেলিনা হোসেন, রিজিয়া রহমান, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, দিলারা হাশেম, রাবেয়া খাতুন, ড. সন্জীদা খাতুন, জাহানারা ইমাম, নূরজাহান বেগম, রাজিয়া খান, রুবী রহমান, পূরবী বসু, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মকবুলা মনজুর, ঝর্ণাদাস পুরকায়স্থ, সালেহা চৌধুরী, নূরজাহান বোস ও মালেকা বেগম। আর এবছর পেলেন কবি কাজী রোজী।