১৩ নারী মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য জন্য এ বছর ১৩ জন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা জানালো জাতীয় মহিলা সংস্থা। ২০০৯ সাল থেকে এই নারী মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা দেয়া শুরু হয়। সম্মাননা স্বরূপ তাদের নারী মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে একটি করে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। গতকাল বুধবার বিকালে নিউ বেইলী রোডে জাতীয় মহিলা সংস্থা আয়োজিত ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ মিলনায়তনে বিজয় দিবস-২০১২ উপলক্ষে ‘মহিলা মুক্তিযোদ্ধা’ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মমতাজ বেগম-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম। সংবর্ধনা পাওয়া ১৩ জন নারী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মরণোত্তর সম্মাননা পান, নুরুন্নাহার জহুর ও বেগম আমিনা মনসুর। বাকী ১১ জন হলেন রওশন আরা শিরি, ড. নিবেদিতা দাশ পুরকায়েস্থ, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, নসিবুন আহমেদ, প্রফেসর ড. এস. এম. আনোয়ারা বেগম, সুলতানা ফেরদৌস আরা খানম (ডলি), রেখো সাহা, রাশেদা ইসলাম মহুয়া, স্বপ্না দত্ত, বেগম ফজিলাতুন্নেছা, জোবেদা খাতুন পারুল, এমপি। মুক্তিযোদ্ধা ড. নিবেদিতা দাশ পুরকায়েস্থ বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীরা সফল অংশীদার, কিন্তু কোথায়ও তাদের কথা বলা বা লেখা হয়নি। বিদেশি অনেক পত্র-পত্রিকায় তাদের নির্যাতনের কথা লেখা হয়েছে কিন্তু নারী মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, দেশের রাজাকার আল-বদরদের পরিবারের নারীরা ছাড়া বাকী সব নারীই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিল। অনুষ্ঠানে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যেকটি নারী একজন সেনাবাহিনীর সদস্যের মতোই কাজ করেছিলেন। তাদের সেই গৌবরগাথা ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। নারী মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধ করেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা দিয়েছেন, সর্বোপরি তাদের সর্বস্ব দিয়েছেন দেশের জন্যে। তাই তাদের ইতিহাস আমাদের দেশের একটি গৌরবময় ইতিহাস। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বার বার আসে না, সেই যুদ্ধে যারা যোগ দিতে পেরেছেন, সেই নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। তিনি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতাগুলো নতুন প্রজন্মের জন্যে লিখে যাওয়ার আহবান জানান। অ্যাডভোকেট মমতাজ বেগম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মায়েদের ও মেয়েদের অবদান সবচেয়ে বেশি। এই যুদ্ধে তারা যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আর কেউ ততভাবে হয়নি। কারণ মায়েরা আর মেয়েরা তাদের স্বামী, ছেলে ও ভাইদের যুদ্ধে পাঠিয়ে নিজেরা অরক্ষিত অবস্থায় থেকেছে, কিন্তু তারপরেও নারীরা তাদের স্বামী, ভাই আর ছেলেদের যুদ্ধে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষায় ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার কথা বলেন।