খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় আওয়ামী লীগ চলছে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে

খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলছে মেয়াদো ত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। কোন কোন জেলায় প্রায় এক দশকেও সম্মেলন করতে পারেনি দলটি। দলের নেতাকর্মীদের চাঙা করতে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জেলায় সম্মেলন করতে বার বার তাগাদা দেয়া হলেও তাতে কোন কাজ হয়নি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, দলের গঠনতন্ত্র মেনে নিয়মিত সম্মেলন না করা যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের হাইকমান্ড সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য কয়েক দফা সময় বেঁধে দেয়। বিভিন্ন বিভাগীয় কমিটির সাথে মতবিনিময়ের সময় দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও জেলা কমিটির নেতারা নিজেদের পদে থাকার জন্য সম্মেলন করা থেকে বিরত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রায় সব জেলায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা থেকে দলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এদিকে, দীর্ঘদিন সম্মেলন করে নতুন নেতা নির্বাচন না করার কারণে ঝিমিয়ে পড়েছে দলীয় কার্যক্রম। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এ বিভাগের বেশকিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগে ভালো করলেও বিগত কয়েকটি নির্বাচনে হেরে গেছে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ প্রার্থী। তৃণমূলের নেতারা বার বার সম্মেলন করার দাবি জানিয়ে আসলেও জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা তা আমলে নেননি। অপরদিকে, জেলা সম্মেলন না হওয়ার রেশ পড়েছে থানা কমিটিগুলোতেও। জেলার দেখাদেখি থানা শাখার কর্মকাণ্ডও শিথিল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো কমিটির কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণও করেছেন। খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার আমাদের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট জেলার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের খবর পাঠিয়েছেন। খুলনা অফিস জানায়, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ চলছে ছয় বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তত্পরতা কিছুটা থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের কোন সাংগঠনিক তত্পরতা একেবারে নেই বললেই চলে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়ার পেছনে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে গ্রুপিং একটি বড় কারণ বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে শুধু সভাপতি হিসাবে তালুকদার আব্দুল খালেক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মিজানুর রহমান মিজানের নাম ঘোষণা করা হয়। এর এক বছরেরও বেশি সময় পর ২০০৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির নাম ঘোষিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালের ১৬ জানুয়ারি। মহানগর আওয়ামী লীগের মত জেলা দলেও সম্মেলনের দিন পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করেনি। ওইদিন কেবল শেখ হারুনুর রশিদকে সভাপতি এবং এসএম মোস্তফা রশিদী সুজাকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয়। এর বেশ কয়েক মাস পর ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নাম ঘোষিত হয়। ২০০৯ সালে একবার জেলা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যশোর অফিস জানায়, ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি দলের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে কমিটি গঠন করা না গেলেও সপ্তাখানেক পর সাংগঠনিক ভোটে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরও কয়েক মাস পর কেন্দ্র থেকে ৫৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অবশিষ্ট ১৬ জনকে পরবর্তীকালে আর যুক্ত করা হয়নি। পূরণ হয়নি মৃত্যুবরণকারী নেতৃবৃন্দের শূন্যপদও। তিন বছর মেয়াদি কমিটি এরই মধ্যে পার করেছে ৫ বছরেরও বেশি সময়। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়েই যশোর জেলা আওয়ামী লীগ অংশ নেয় ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে। প্রায় ডবল মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি অংশ নিতে যাচ্ছে ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় কাউন্সিলে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার বলেন, ডিসেম্বরেই চেয়েছিলাম কাউন্সিল করতে। কিন্তু সকল উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম কমিটি শেষ না হওয়ায় ফেব্রুয়ারি-মার্চের আগে জেলা সম্মেলন করা যাচ্ছে না। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় তীব্র কোন্দলে আওয়ামী লীগের জেলার রাজনীতি ও কমিটি দীর্ঘদিন দু’ভাগে বিভক্ত। কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি ও রাজনৈতিক মূল স্রোতধারার বাইরেও রয়েছে বিদ্রোহী দলীয় আরেকটি শক্তিশালী গ্রুপ। ফলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত ও শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘকাল সভাপতির অনুপস্থিতি ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই জোড়াতালি চলছে জেলার রাজনীতি। জেলা কমিটি গঠনকল্পে সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালের ১৬ এপ্রিল। এদিকে বর্তমান জেলা কমিটির মেয়াদ চার বছর পূর্বে উত্তীর্ণ হলেও কাউন্সিল ডেকে নতুন কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে দলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে অন্তরায়সহ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের কুষ্টিয়া জেলা কমিটি গঠনের জন্য ২০০৪ সালের ১৬ এপ্রিল কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমীর হলরুমে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০০৫ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি ৭১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাড়ে সাত বছরেরও অধিক সময়ে সম্মেলন না হওয়া আর দলীয় কোন্দলের কারণে এ জেলায় দলের কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে আছে। দীর্ঘ সময়ে সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। তারা বলেছেন, পদ আঁকড়ে ধরে কমিটির নেতারা নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নে ব্যস্ত রয়েছে। এসব হতাশা, ক্ষোভ এবং দ্বন্দ্বের কারণে বিগত দুটি পৌরসভার নির্বাচনে সাতক্ষীরা ও কলারোয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থিত মেয়র থেকে শুরু করে কাউন্সিলর প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে হেরে গেছেন। এমনকি মেয়র প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবি হয়েছে। এ জেলায় গত সাড়ে সাত বছরেরও বেশি সময় পার হলেও ৭৮টি ইউনিয়নের সবকটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি জেলা আওয়ামী লীগ। আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে সবকটি ইউনিয়ন এবং ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে উপজেলাগুলোতে সন্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান ইত্তেফাককে জানান। তিনি আরও জানান, আগামী ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগে সাতক্ষীরা জেলা কাউন্সিল করা সম্ভব নয়। তবে ৩/৪ মাসের মধ্যে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রকশ্য রূপ নেয়। এর একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন সভাপতি এমপি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি। আর এ কোন্দল প্রায় সবকটি উপজেলায় বিস্তৃত। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে সকল ইউনিটের দলীয় কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে এসব কমিটির সম্মেলন না হওয়ায় একদিকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে অন্যদিকে নেতৃত্বেও নতুন মুখের দেখা মিলছে না। দলটির কেন্দ্র থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলার নয়টি উপজেলা কমিটির সম্মেলন করার তাগিদ দিলেও জেলা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। জেলায় সম্মেলন না করার পেছনে দলের ত্যাগী নেতারা গুটিকয়েক শীর্ষ নেতাকে দায়ী করছেন। ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, জেলায় আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৫ সালে। এতে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাই সভাপতি ও এডভোকেট আজিজুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। কাউন্সিলের ৬ বছর পর ২০১১ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়। ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম অপু এবং ঝিনাইদহ পৌর মেয়র ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর মধ্যে গ্রুপিং রয়েছে। জেলায় দলের দু’গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ ঘটছে। দল ক্ষমতায় আসার পর-শৈলকুপাতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন কর্মী খুন হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাতুজ জুম্মার সাথে সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চলের মধ্যে চরম গ্রুপিং চলে আসছে। প্রতিটি উপজেলা কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। অথচ কাউন্সিল হয় না। শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ১৯৯৭ সালের পরে আর হয়নি। নড়াইল সংবাদদাতা জানান, কমিটি গঠনের ৮ বছর পার হলেও নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। এছাড়া স্থানীয় এক এমপি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক রাখলেও অপর এমপি বেশির ভাগ দলীয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় পুলিশ ও র্যাব দিয়ে ব্যাপক ভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। এই এমপি’র নির্যাতন ও পুলিশি হয়রানির শিকার অনেকেই জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের কাছে নালিশ দিলেও তারা কোন ভূমিকা না নেয়ায় জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের প্রতিও ক্ষুব্ধ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, আট বছর আগে সম্মেলনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার। আর সাধারণ সম্পাদক হন আজাদুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান ইত্তেফাককে বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের মত অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মোকাবিলা, কারাগারে আটক শত শত নেতাকর্মীকে আইনের লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করে আনা এবং স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী নেতাকর্মীদের সময় দেয়া ইত্যাদি কারণে সঠিক সময়ে জেলা কমিটি গঠনে দলীয় কাউন্সিল করা সম্ভব হয় নি’। মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০০৪ সালের ২০ জানুয়ারি। এরপর ৮ বছরেও কোন কাউন্সিল হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হাজী জয়নাল আবেদিন। আর সাধারণ সম্পাদক মেহেরপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট মিয়াজান আলী। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইত্তেফাককে জানান, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা কমিটির বর্ধিত সভা নিয়মিত হয়। সর্বশেষ সভা চলতি সালের ২০ অক্টোবর মেহেরপুর টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয়। হাজী জয়নাল আবেদিন বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে মেহেরপুর জেলায় আর কোন কাউন্সিল করার সম্ভাবনা নেই। দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে জাতীয় কাউন্সিলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। মাগুরা থেকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগে ৮ বছর কাউন্সিল হয় না। দলের নেতাকর্মীদের মাঝে সমন্বয় নেই। এতে দল ক্ষমতায় আসার পর সাংগঠনিক ভাবে এগুতে পারছে না। ২০০৪ সালে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়। ৪ বছর পর ২০০৮ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়। কমিটিতে স্থান না হওয়ায় অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে মনোকষ্ঠ আছে। যুগ্ম সম্পাদক এম এ গফুর মিয়া দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। মাগুরা জেলা সভাপতি আলতাব হোসেন বয়সের ভারে দলের কর্মকাণ্ড ঠিকমত পরিচালনা করতে পারেন না। ডাঃ এমএস আকবর দলের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।