রাজন ও মোস্তফা প্রথমে বিশ্বজিেক আঘাত করে পরে আমি কোপাই

বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃত রফিকুল ইসলাম শাকিল ওরফে চাপাতি শাকিল জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির কর্মকর্তাদের জানায়, প্রথম আঘাত করে রাজন ও মোস্তফা এবং তারপর সে কোপায়। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের প্রধান ঘাতক শাকিলের আটদিনের রিমান্ডের তৃতীয় দিন এবং গ্রেফতারকৃত রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এইচএম কিবরিয়া ও মো. কাইয়ুম মিয়া টিপুর আটদিনের রিমান্ডের গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৪র্থ দিন অতিবাহিত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ছয় ঘাতকই বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। জড়িত আরও কয়েকজনের নাম পরিচয় ডিবির কাছে তারা প্রকাশ করে দেয়। তারা ছাত্রলীগের বখাটে গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের দলে সবাই ভয় পায়। ছাত্রলীগে তারা সুবিধাভোগী বলে কর্মকর্তাদের জানায়। বিশ্বজিতের ঘটনায় পুলিশের অবহেলা রয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা হবে এদিকে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স থেকে গতকাল বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোন ধরনের অবহেলা ও ব্যর্থতা রয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করে দেখার জন্য মহানগর পুলিশ কমিশনার তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কমিটি গঠন করা হতে পারে। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশের কোন ধরনের অবহেলা কিংবা ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৯ ডিসেম্বর অবরোধ চলাকালে সকাল ৯টায় ছাত্রলীগের লম্বা মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুরনো ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের পূর্ব পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। মিছিলের শেষ ভাগে ছিল গ্রেফতারকৃতরা। তাদের নেতৃত্বে ছিল পলাতক ইউনুস, গ্রেফতারকৃত নাহিদ ও শাকিল। তাদের প্রায় সকলের কাছে রড লাঠি এবং অনেকের কাছে ছোরা ও চাপাতি ছিল। মিছিলের শেষ ভাগের দিকে হঠাত্ একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। দৌড়ে বিশ্বজিত্ টমাস ক্লিনিকের দোতলায় গিয়ে ওঠে। সেখানে এক ব্যক্তি বিশ্বজিেক দেখিয়ে বলে, টমাস ক্লিনিকে বোমা নিক্ষেপকারী পালিয়েছে। একথা শুনে উক্ত গ্রুপের সদস্যরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়। বিশ্বজিেক দেখে তারা বলে ওঠে, এই যে শ্যালা বোমা মেরে এখানে আসছো। একথা বলে প্রথমে রাজন ও মোস্তফা বিশ্বজিেক আঘাত করে। এরপর যে যেভাবে পারছে তাকে আঘাত করে। পরে নাহিদ, শাকিল, রাজন, শাওন, ইমদাদুল হক, নূরে আলম লিমন ও ওবাইদুল কাদের তাওসীন, তমাল, ইমরান, মেহেদীসহ ১০/১২ জন বিশ্বজিেক মারতে থাকে। সর্বশেষ শাকিল, রাজন, নাহিদ, শাওন, লিমন, মোস্তফা, সাইফুল ইসলাম, ইউনুস তাওসীন ও ইমদাদুল হক বিশ্বজিত্ হত্যা নিশ্চিত করে বলে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে। ছয়জনই এক বাক্যে ডিবির কর্মকর্তাদের বলে, ছাত্রলীগে আমরা কারো নির্দেশ মানি না। তাদের গ্রুপের নির্দেশদাতা ইউনুস, শাকিল ও নাহিদ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটা পরিকল্পিত কোন ঘটনা নয়। জড়িতরা কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরাও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত নয় বলে কর্মকর্তারা জানান।