মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বর্জ্যে
দূষিত হচ্ছে খাল-বিল, নদীর পানি
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৮
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের শতাধিক মিল কারখানার দূষিত বর্জ্য নদী ও খাল-বিলের পানিতে মিশে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। অধিকাংশ মিলকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার প্লান্ট না থাকায় দূষিত বর্জ্যে পানি দূষিত হয়ে নদী ও খালবিলের মাছ মরে যাচ্ছে। সেই সাথে পচা পানির দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। এতে এলাকার গাছ-পালাও মরে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। পানি দূষিত হওয়ায় গোড়াই শিল্পাঞ্চলের আশপাশের ১৫/২০টি গ্রামের ৩/৪ লাখ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। অনেকের শরীরে খোঁচ-পাচরাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।
গতকাল বুধবার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে কারখানার দূষিত বর্জ্য খাল-বিল ও নদীর পানিতে মেশার দৃশ্য। দূষিত পানিতে মাছের মৃত্যু এবং এলাকার মানুষের রোগাক্রান্ত হওয়ার সত্যতা সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় ১৯৬২ সালে সর্ব প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প টাঙ্গাইল কটন মিলস নামক কারখানা স্থাপিত হয়েছিল। এরপর থেকে দিন দিন সেখানে শিল্পকারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে এই এলাকায় ছোট বড় শতাধিক মিলকারখানা গড়ে উঠেছে। কারখানার মধ্যে রয়েছে কাশেম ড্রাইসেল, বেঙ্গল এনএফকে, নাসির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, মন্ডল গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, ইয়ুত্ স্পিনিং মিলস, উত্তরা সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রভৃতি। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য শোধনের জন্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন হলেও অধিকাংশ কারখানাতেই তা স্থাপন করা হয়নি। ঐ সব কারখানার বর্জ্য নদী ও খাল-বিলে নিয়মিত ফেলা হচ্ছে। আর এই সব বর্জ্য মিশে পানি হয়ে উঠেছে বিষাক্ত, মরে যাচ্ছে মাছ, রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। গোড়াই শিল্পাঞ্চলের সোহাগপাড়া, গন্ধব্যপাড়া, নাজিরপাড়া, হাটুভাঙ্গা, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের দৃশ্য। বিশেষ করে সোহাগপাড়ার খাল, ক্যাডেট কলেজ এলাকার খাল ও বিল এবং লৌহজং ও বংশাই নদীর দূষিত পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দূষিত পানির কারণে বিভিন্ন ফসল ও সবজির ফলনও কম হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারের উচ্চ মহলের লোকজন প্রতিমাসে এসে কলকারখানার মালিকদের নিকট থেকে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকার পরিবেশ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। গোড়াই শিল্পাঞ্চলে সরেজমিন পরিদর্শন সাপেক্ষে যদি এমনটি দেখা যায় তাহলে কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।