নারী নির্যাতন রোধে রাষ্ট্রকে
হতে হবে নারী বান্ধব
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৪
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০১২ এর অংশ হিসেবে আন্তঃ প্রজন্ম সংলাপ অনুষ্ঠানের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন শিক্ষা, মানসিক অসুস্থতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অসচেতনতা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে মূলত নারীরা নির্যাতনের শিকার হন। এর সমাধানে প্রথমত রাষ্ট্রকে নারীবান্ধব হতে হবে। পাঠ্যসূচিতে নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অন্তর্ভুক্ত করা, নারীদের শিক্ষিত করে তোলা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা, নারীদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে ইতিবাচকভাবে তাদের উপস্থাপন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার আহবান জানান বক্তারা।
বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রজন্ম সংলাপ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। মহিলা অধিদপ্তর ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৬ দিনব্যাপী দেশের সবকটি বিভাগীয় শহরে এই আন্তঃসংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইউএনএফপিএ’র সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনএফপিএ’র স্থানীয় প্রতিনিধি আর্থার আরকেন।
প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই রচিত সংবিধানে নারী-পুরুষের সম-অধিকারের কথা বলা হয়েছে। যেটা পৃথিবীর অন্য অনেক দেশে হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। শিরীন শারমিন নারীদের সকল কাজে অবদান রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে এদেশের নারীরা অসামান্য অবদান রেখেছেন। তারা দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কখনো পিছিয়ে থাকেননি বলেও জানান। তিনি এ পর্যায়ে নারীর উন্নয়নে এবং নারীর প্রতি নির্যাতন বন্ধে কন্যা শিশুদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার আহবান জানান।
ব্র্যাকের পরিচালক শিপা হাফিজা বলেন, সামাজিক প্রথা এবং ধর্মের অনুশাসন যুগ যুগ ধরে নারীদের অর্ধেক মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখিয়েছে। সেই জায়গাগুলোতে কাজ করতে হবে।
অ্যাডভোকেট মাকছুদা আক্তার বলেন, সম্পদে নারীদের সমান অধিকার না থাকলে, নারী নির্যাতিত হতেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে আইনের সংস্কার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার বলেন, পরিবর্তনের হাওয়া বেগবান করতে হলে, নারীর পরিবতনের ইতিবাচক দিকগুলো গণমাধ্যমে প্রচার করতে হবে এবং নেতিবাচক দিকগুলোর প্রচার বন্ধ করতে হবে।
ঢাকা বিভাগের ‘প্রজন্ম সংলাপ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম, অধ্যাপক মেহতাব খানম, জাকিয়া কে হাসান, সহযোগী অধ্যাপক ড. শাইখ ইমতিয়াজ, রুবায়েত সারোয়ার, এ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভীন প্রমুখ। আব্দুন নূর তুষার-এর পরিচালনায় প্রজন্ম সংলাপে রাজধানীর হলিক্রস কলেজ ও নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।