ভারতের দুই নদীতে বাঁধের
পরিকল্পনায় ঢাকার প্রতিবাদ
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৬
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ অবস্থাতেই অভিন্ন অন্য দুইটি নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিকল্পনা করেছে ভারত। বাংলাদেশের উজানে মেঘালয়ের উমেয়ো ও মাইনথ্রু নামের এই দুই নদীতে ভারতের বাঁধ দেয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গত সপ্তাহে চিঠি দিয়ে এই বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার বিডিনিউজকে বলেন, জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য তারা মেঘালয়ে উমেয়ো ও মাইনথ্রু নদীতে বাঁধ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে আমরা জেনেছি। এই দুই প্রকল্প নিয়ে না আগোনোর জন্য আমরা তাদের বলেছি। ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া অভিন্ন এই দুই নদীর ওপর কিছু তারা করতে পারে না।
উমেয়ো ও মাইনথ্রু নদী ভারত ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। তাই যথাযথ সমীক্ষা ছাড়া এই দুই নদীর ওপর কোনো ধরনের অবকাঠামো বাংলাদেশ মেনে নেবে না বলে ওই কর্মকর্তা জানান। মনিপুর রাজ্যে বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, টিপাইমুখ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বেগ জানিয়েছে এবং ওই বাঁধ হলে বাংলাদেশের ওপর তার কী কী প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে এখন যৌথ সমীক্ষা চলছে। নতুন দুই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি ভারত। কবে নাগাদ তাদের বক্তব্য পাওয়া যাবে সে বিষয়েও কিছু জানায়নি তারা। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে এই কর্মকর্তা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত সপ্তাহে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেও আরেকটি চিঠি পাঠানো হতে পারে।
মাইনথ্রু ‘সারি’ নদী নাম নিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা দিয়ে এবং উমেয়ো ‘উমিয়ম’ নদী নামে সুনামগঞ্জ হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। গ্রেটার শিলং ওয়াটার সাপ্লাই স্কিমের আওতায় উমেয়ো নদীতে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে মেঘালয় সরকার। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৭টি অভিন্ন নদী রয়েছে যার ৫৪টিই এসেছে ভারতের ওপর দিয়ে। এগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে শুধু গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হয়েছে। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা গত বছর থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির মুখে শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।