সীমান্ত সমস্যার দ্রুত
সমাধান চায় ভারত
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৮
বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি না হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত ও বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি করার ব্যাপারে ভারত তত্পর হয়ে উঠেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদ নতুন বছরের প্রথম মাসেই এ ব্যাপারে আলোচনা করতে ঢাকায় আসছেন বলে জানা গেছে। তবে দেশটির দুই রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সীমান্ত চুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে সালমান খুরশীদ দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে যত দেরি হবে পরিস্থিতি ততই প্রতিকূল হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতার ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ জানায়, গত সোমবার দিল্লির সাউথ ব্লকে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে সালমান খুরশীদ সীমান্ত চুক্তি নিয়ে বৈঠক করেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থান করার পরও তিনি কিংবা তৃণমূলের পক্ষে কোন সংসদ সদস্যই বৈঠকে যোগ দেননি। অপরদিকে ভারতের লোকসভায় বিরোধী দলীয় নেতা বিজেপির সুষমা স্বরাজ ও অন্য দলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সালমান খুরশীদ চুক্তি করা হলে ভারত কীভাবে লাভবান হবে তা সুষমাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। এরপরও তৃণমূল ও বিজেপি সীমান্ত চুক্তির বিরোধিতা করে বৈঠকে বক্তব্য দিয়েছে।
সালমান খুরশীদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, সীমান্ত চুক্তিটি প্রথমে মন্ত্রিসভায় পাস করাতে হবে। এরপর সংসদের দুই সভাতেই এটিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করাতে হবে। কিন্তু ছিটমহল হস্তান্তর এবং জমি আদান-প্রদানের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। সে কারণে মুখ্যমন্ত্রীর সাথেও দিল্লি বারবার আলোচনা করছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, মমতার সাথে সালমান খুরশীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল। ঢাকা সফরের আগে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তিনি খোলামেলা আলোচনায় আগ্রহী। এদিকে সম্প্রতি আইনমন্ত্রী অশ্বিনী কুমারও বাংলাদেশ সফর শেষে দিল্লি গিয়ে সংসদে মমতার সাথে দেখা করে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তিতে তার সমর্থনের আশায় দিন গুনছে।
দিল্লির বরাত দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত দ্রুত বাংলাদেশের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তি করতে চাইছে। আর এ কাজটি সম্পাদনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সালমান খুরশীদকে। বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সাথে সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে কথাবার্তা বলবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগেই পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই বাংলাদেশে আসবেন। দিল্লির সিদ্ধান্ত হচ্ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের সফরের পরই ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি ও জঙ্গি দমন নিয়ে আলোচনার জন্য জানুয়ারির শেষ দিকে ঢাকায় আসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্দ।
সীমান্ত চুক্তির বিপক্ষে অবস্থানকারীদের বক্তব্য হচ্ছে এ ধরনের চুক্তি হলে পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র বদলে যাবে। অনেক বেশি জমি হারাতে হবে রাজ্যকে। বিষয়টি সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ১১১টি ছিটমহল ভারত বাংলাদেশকে দেবে এবং ৫১টি ভারত পাবে। এক্ষেত্রে ছিটমহলের প্রাপ্য সংখ্যা বাংলাদেশের বেশি হলেও এসব জমিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মালিকানা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেই। চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর হলে যে ৫১টি ছিটমহল ভারত পাবে তাতে জমির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ১১০ একর।
প্রসঙ্গত ১৯৪৭ সাল থেকে দুইদেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা মীমাংসার চেষ্টা চলছে। ১৯৫৮ সালে জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফিরোজ খান নুনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। তারপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে স্থল সীমান্ত নির্ধারণের চেষ্টা বারবার হয়েছে। কিন্তু সবই অমীমাংসিত থেকে গেছে। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরে এলে উভয় দেশের মধ্যে সীমান্ত মীমাংসা প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। এতদিন পর দিল্লি সেটিকেই চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে।