নোয়াখালীর নিজাম
ডাকাত বন্দুকযুদ্ধে
নিহত
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৯
নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার ত্রাস জলদস্যু নেতা নিজাম ওরফে নিজাম ডাকাত (৩৫) র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চর বাটার দুলাল মিয়ার হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় র্যাব তার কাছ থেকে ইটালির তৈরি দুই রাডন্ড গুলি ভর্তি একটি পিস্তল, একটি দেশি এলজি ও এলজির ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। নিহত নিজাম লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর রমিজের লক্ষ্মীপুর গ্রামের রুহুল আমিনের পুত্র। র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হাতিয়ার জলদস্যু নেতা বাশার মাঝি নিহত হওয়ার পর ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় নিজাম ডাকাত। তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে র্যাবের গোয়েন্দা টিম দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কাজ করছিল।
র্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি নাজির আহামেদ ইত্তেফাককে জানান, নিজাম ডাকাতের দল দুলাল মিয়ার বাজারের পাশে একটি বাগানে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে- এই খবর পেয়ে র্যাব ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। ঢাকা থেকে আসা র্যাব গোয়েন্দা ইউনিটের একটি দল ও র্যাব-১১ এর একটি দল যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় ডাকাতরা টের পেয়ে র্যাব সদস্যদের উপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টা গুলি বিনিময় হয়। পরে তারা পালিয়ে গেলে বাগান তল্লাশি করে মৃত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ওই ব্যক্তিটি ‘নিজাম ডাকাত’ বলে সনাক্ত করেন। তার পাশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে চর জব্বার থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে নিজাম ডাকাত নিহত হবার খবর ছড়িয়ে পড়লে উপকূলীয় হাতিয়ার চর এলাকার ভূমিহীনদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। উত্ফুল্ল ভূমিহীনরা সকালে স্থানীয় বাজার থেকে নিজাম বাহিনীর সদস্য জয়নাল, ফয়েজ কেরানি ও সিরাজকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। নিহত নিজাম ডাকাতের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় ১৩টি ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানায় ১৫টিসহ মোট ২৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ হাজারী ।
এদিকে নিজাম ডাকাত নিহত হওয়ায় জলদস্যু দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বাহার কেরানি তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।