এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রস্তুতি ২০১৩

বাংলা প্রথমপত্র মোস্তাফিজুর রহমার লিটন সিনিয়র শিক্ষক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা অধ্যায় :জীবন-বন্দনা কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) ১. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও তোমার প্রণাম করি জুড়ি দুই কর বন্ধ্যা পৃথিবী আবাদ করলে বজ্রমুষ্টিধর দুপায়ে ঝড়ের গতি ছুটিছ উধাও গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে দলি নীহারিকা। পুষিলে সাগর তুমি, মরুকে রসালে গড়িতে আবাসভূমি পর্বত উড়ালে। ক. যীশু কে? ১ খ. ‘কাটি অরণ্য রচিয়া অমরাবতী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা করো। ২ গ. কবিতাংশটির প্রথম চরণদুটিতে ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার কোন প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো। ৩ ঘ. কবিতাংশটিতে ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার মর্মবাণীই প্রতিফলিত হয়েছে( মন্তব্যটি যাচাই করো। ৪ ১ নম্বর প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর যীশু মা মেরীর সন্তান। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর কবি তারুণ্যের উদ্যম ও সাহস বোঝাতে উক্তিটি করেছেন। তারুণ্যের শক্তিতে শক্তিমান হয়েই কবি পৃথিবীর সকল বাধা দূর করতে চেয়েছেন। তরুণদের গতির ছোঁয়া পেয়ে উল্কার মতো অমিত বেগে পৃথিবী ঘুরছে। তারা তাদের খেয়াল-খুশিতে অরণ্য কেটে সুখের অমরাবতী নির্মাণ করেছে। অর্থাত্ তরুণেরা পৃথিবীর সকল জঞ্জাল সরিয়ে তাকে বসবাস উপযোগী করতে সক্ষম। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের জয়গান করেছেন; উদ্দীপকেও এ বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে। ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের জয়গান ধ্বনিত হয়েছে। বিশ্বপ্রকৃতিতে অস্তিত্তের সংগ্রামে শ্রমজীবীরাই অবিসংবাদিতভাবে শ্রেষ্ঠত্তের দাবিদার। সভ্যতা নির্মাণে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামী, ত্যাগী ও দুঃসাহসী ভূমিকার জন্যে দুটি কবিতাংশেই জয়গান গীত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে বলা হয়েছে, তোমার প্রণাম করি জুড়ি দুই কর/বন্ধ্যা পৃথিবী আবাদ করলে বজ্রমুষ্টিধর : এখানে কবি শ্রমজীবী মানুষ তথা কৃষককে দুই হাতে প্রণাম করেছেন। যারা শক্ত হাতে বন্ধ্যা পৃথিবী আবাদ করেছে। ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় কবি তাদের জয়গান গেয়েছেন, যারা কঠিন শ্রমে পৃথিবীকে ভরিয়ে দিয়েছে ফল ও ফসলে। ধরণী তাদের ফুলে ফলে নজরানা দিয়েছে। উদ্দপিকের কবািতার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে জীবনের জয়গান। যেখানে মানুষ সাহস করে সভ্যতা সৃষ্টি করেছে এবং এ সভ্যতার পরতে পরতে তাদেও ছোঁয়া লেগে আছে। ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায়ও এই শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন অর্থূে রেখে যাওয়া কর্মফলের কথা প্রকাশ করছেন। তাই বলঅ যায়, কবি এই শ্রমজীবী মানুষ তথা কৃষকের জয়গান করার প্রচেষ্টা করেছেন, যার সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকে। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’-এর উত্তর ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতা ও উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষের জয়গান ধ্বনিত হয়েছে। নজরুলের কবিতায় মানবমুক্তির যে উদাত্ত বাণী উচ্চারিত হয়, ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতাটি তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। এ কবিতায় কবি তাদের জয়গান গেয়েছেন যারা কঠিন শ্রমে পৃথিবীকে ভরিয়ে দেয় ফল ও ফসলে। কবি বলেছেন : গাহি তাহাদের গান (/ধরণীর হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান। কবি এ কবিতায় তারুণ্যের সেই শক্তিকে বন্দনা করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও শ্রমজীবী মানুষের জয়গান করা হয়েছে। যারা বজ্রমুষ্টিধরে বন্ধ্যা পৃথিবীকে ফসলে ভরিয়ে তুলেছে, যারা দুপায়ে ঝড়ের গতি নিয়ে ছুটেছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে, যারা পর্বতের স্থলে তৈরি করেছে আবাসভূমি ( কবি তাদের জয়গান গেয়েছেন। কবি বলেছেন : পুষিলে সাগর তুমি, মরুকে রসালে/গড়িতে আবাসভূমি পর্বত উড়ালে। এখানে নবীন যাত্রিদেও সাহসিকতার মাধ্যমে সুষ্টিশীল জীবনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যারা দুর্জয়কে জয় করে তাদের নির্ভয়, দুঃসাহস, প্রাণশক্তি, গতি ভবিষ্যত্ নির্মাণের অঙ্গীকার বয়ে আনে। প্রতিশ্রুতিশীল যেকোনো মানুষকেই এ বিষয়টি প্রণোদনা জোগায়। উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে বিশে¬ষণ করে আমরা ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার মূল সুরকেই যেন খুঁজে পাই। যারা অসীম সাহস ও বিপুল প্রাণশক্তি নিয়ে দুর্লঙ্ঘ্য পর্বত জয় করে, সাগরকে ভরাট করে নগর গড়ে, মেরুর বুকে অভিযান চালায়, আকাশ জয়ে ছুটে যায় গ্রহ থেকে গ্রহান্তরেতারাই প্রকুত যৌবনের অধিকারী। এ বিষয়টিকে পর্যালোচনা করে বলা যায়, ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার মর্মবাণীই উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত হয়েছে। ২. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও স্তবক-১ : রৌদ্রে পুড়ে, বৃষ্টিতে সে ভিজে দিবা-রাতি মোদের ক্ষুধার অন্ন যোগায় চায় নাক সে খ্যাতি। স্তবক-২ : দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যারা দুর্জয় করে জয় তাহাদের পরিচয় লিখে রাখে মহাকাল সব যুগে যুগে সবকালে টিকা ভাস্বরে শোভে তাল। ক. ‘কূপমন্ডুক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কী? ১ খ. ‘আষাঢ়ের গিরি-নিঃস্রাব’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? বর্ণনা করো। ২ গ. ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার বিষয়বস্তু অনুযায়ী, স্তবক ১-এ উলি¬খিত ব্যক্তিদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। ৩ ঘ. ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার বিষয়বস্তু অনুযায়ী, স্তবক ২-এর বক্তব্য স্তবক ১-এর উলি¬খিতদের জন্যে প্রযোজ্য কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪ ২ নম্বর প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর ‘কূপমন্ডুক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কুয়োর ব্যাঙ। ২ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর উদ্ধৃত শব্দগুচ্ছ দিয়ে কবি তারুণ্যের বাধাহীন অমিত বেগের পথে শক্ত প্রতিরোধের কথা বুঝিয়েছেন। তারুণ্যের শক্তিতে শ্রমজীবী মানুষ সকল বাধা অতিক্রম করে নতুন জীবন গড়ার জন্যে সামনে এগিয়ে যায়। ‘আষাঢ়ের গিরি-নিঃস্রাব’ বলতে বর্ষাকালের নদী বা ঝরণার জলস্রোতের প্রচণ্ড গতিশক্তিকে বোঝায়। সেই শক্তিকেও তারা পরোয়া না করে নতুন জীবনের দিকে ছুটে যায়। কারণ তারা কাজ করে মানবকল্যাণে। ২ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে কৃষকের কথা ব্যক্ত হয়েছে। উদ্দীপকের স্তবক একেও বর্ণিত হয়েছে কৃষকের মহত্ত্তের কথা। ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় তাদের বন্দনা প্রথমেই করেছেন যারা ধরণীর বুকে ফসলের ফরমান এনে দেয় অর্থাত্ আমাদের অবহেলিত কৃষক সমাজ। এই পৃথিবী একসময় ছিল অনুর্বর। সে কঠিন পৃথিবীকে কৃষক শাসন করেছে। তাদের দৃঢ় কঠিন হাতের কবলে পড়ে পৃথিবীর মাটি যেন ফুল, ফল ও ফসলের উপঢৌকন দিতে বাধ্য হয়। তাদের মেহনতের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে অনুর্বর পৃথিবী উর্বর হয়ে উঠেছে। কৃষকের কড়া-পড়া শক্ত হাতে পৃথিবী যেন ত্রস্ত হয়ে ওঠে এবং ফসল দিতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকের স্তবক ১-এ উলি¬খিত ব্যক্তিদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে কৃষকরা দিন-রাত কাজ করে ফসল ফলায়। অন্যের ক্ষুধার্ত মুখে তারা অন্ন তুলে দেয়। অথচ এর বিনিময়ে সামান্য খ্যাতিও সে চায় না। পৃথিবীকে উর্বর করে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে তার অবদান কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। পৃথিবীর জন্যে এমন গুরুত্তপূর্ণ ব্যক্তিরা থাকে সবকিছুর আড়ালে। নীরবে, নিভৃতে কাজ করে তারা পৃথিবীর মানুষের মুখে অন্ন জুগিয়ে যাচ্ছে। কবিতার মধ্যেও দেখা যায়, অনেক ত্যাগ ও কষ্টের ফলে এ পৃথিবী এমন সুন্দর হয়েছে। নানা পৃতিক্থল পরিবেশ পার কওে এ ধরণী সুষ্টি হয়েছে এক নতুন রূপে। রোদে জলে ভিজেএই মানুিষেরা অনেক কষ্ট করে পৃথিবীকে দান কওে নতুর বারতা। তাই বলা যায়, ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার বিষয়বস্তু অনুযায়ী, স্তবক ১-এ উলি¬খিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এক ও অভিন্ন। ঘএর উত্তর আগমীকাল