শীতের পিঠা
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৩৬
ঋতুর পালা বদলের এই দেশে প্রকৃতির এক অন্য রকম বৈচিত্র্য নিয়ে আসে শীতকাল। কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়া আমাদের চলমান জীবনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। এ সময় পোশাকের যেমন পরিবর্তন ঘটে তেমনি পরিবর্তন ঘটে খাবার তালিকাতেও। আবার এই খাবার তালিকায় আবির্ভাব ঘটে কিছু নতুনত্ব। যা শুধু শীতের ঐতিহ্যই বহন করে না, আমাদের জীবনে এক মজার আনন্দও উপস্থাপন করে। শীতের টাটকা শাকসবজি আর মিষ্টি খেজুর রসের পাশাপাশি বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা উত্সব। মূলত ভোজন রসিক বাঙালির লোকজ সংস্কৃতিতে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে এই পিঠা। এই পিঠা সাধারণত শীতকালেই বেশি চোখে পড়ে। পুরো শীতকালজুড়ে সারা দেশেই চলে এই উত্সব।
আগে শীতের এই পিঠা উত্সবকে কেন্দ্র করে বাড়ি বাড়ি মহাধুম পড়ে যেতো। বাড়িতে আসতো জামাই-ঝি আর নতুন কুটুম। শীতের টাটকা খেজুর রসে তৈরি করা হতো সুস্বাদু পাটালি আর ঝোলা গুড়। এই সুস্বাদু খেজুর গুড় আর নতুন ধানের নতুন চালে তৈরি করা হতো নানা স্বাদের পিঠা। ভাপাপিঠা, চিতইপিঠা, পাটিসাপটা, তেলেরপিঠা, পুলিপিঠা, নকশিপিঠা, দুধপিঠা ও রসপিঠাসহ হরেক রকম পিঠার আয়োজন চলতো। একেক রকম পিঠার একেক রকম স্বাদ। কখনো ঝাল দিয়ে তৈরি করা হতো ঝালপিঠা। ডিম দিয়ে তৈরি হতো ডিমবড়া পিঠা। আবার টাটকা মিষ্টি খেজুর রস জাল করে তৈরি করা হতো রসপিঠা। মাংস দিয়ে তৈরি পিঠা আগুনে পুড়িয়ে তৈরি হতো উটপোড়া পিঠা।
কালের বিবর্তনে পিঠার সেই উত্সব আর নেই। আগের মতো গাঁও-গ্রামে বাড়ি বাড়ি এখন আর পিঠা উত্সব হয় না। আজকাল এই উত্সব হয়ে উঠেছে ব্যবসাকেন্দ্রিক। এক সময় যে উত্সব ছিল গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে নববধূর চুলার পাড়ে। এখন এই উত্সব চলে এসেছে শহরের রাস্তার মোড়ে, হাট-বাজার, লঞ্চ, স্টিমার ও বাস টার্মিনালে। এসব স্থানে নিয়মিত বসছে পিঠার দোকান। সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায় সব রকম পিঠা। এছাড়া ‘পিঠা ঘর’ নামে আজকাল কিছু নামি-দামি রেস্তোরাঁও গড়ে উঠেছে। ‘পিঠা ঘর’ নামের এই রেস্তোরাঁগুলোতে পাওয়া যায় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী সব ধরনের পিঠার পাশাপাশি আধুনিককালের কিছু নতুন পিঠা।
তারপরও শত বছরের ঐতিহ্য বাঙালির এই পিঠা সংস্কৃতি টিকে আছে, থাকবে চিরকাল।
নাটোর