গড়াই তীরবর্তী ৪ জেলায় ভাঙ্গন অব্যাহত
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৩
গড়াই নদীর ভাঙ্গনে নদী তীরবর্তী কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। কুষ্টিয়া শহরের ভাটি থেকে শুরু করে কামারখালী পর্যন্ত কম পক্ষে ২০টি পয়েন্টে ভাঙ্গন চলছে। বহু পরিবার বাড়িঘর জমি হারিয়ে ছিন্নমূলে পরিণত হয়েছে। কুমারখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কয়া গ্রাম গড়াইয়ের ভাঙ্গনে বিলীনের পথে। চাপড়া এলাকা বেশ আগে থেকেই ভাঙ্গন কবলিত। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বার বার ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করে আসছে। ভাটিতে ভাঙ্গন ধরছে। কুমারখালী শহরের পুরানো এলাকার ঐতিহ্যবাহী বাড়িঘর নদী গ্রাস করেছে। গ্রোয়েন নির্মাণের পর শহর রক্ষা পেলেও ভাটিতে ভাঙ্গন চলছে। হিজলাবট ও এনায়েতপুর গ্রাম দু’টি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বেশ কয়েক বছর আগে। হিজলাবট গ্রামের দু’-তৃতীয়াংশ নদী গ্রাস করেছে। খোকসা উপজেলা সদর ভাঙ্গনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। কমলাপুর থেকে শুরু করে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙ্গন চলছে। ভাঙ্গন রোধের কোন উদ্যোগ নেই এখানে। ভাটিতে গনেশপুর থেকে শুরু করে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বরুলিয়া হয়ে কেশনগর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বরুলিয়ায় অস্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাঙ্গন ঠেকানো যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে এ গ্রামের ১২শ’ বিঘা জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এখানে ভাঙ্গন জিকে প্রকল্পের প্রধান খালের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সারুটিয়া গ্রামের সাড়ে ৪শ’ বিঘা জমি ভাঙ্গনে গ্রাস করেছে। আবার নদীর অপর পারে খোকসার চাঁদট গ্রাম থেকে শুরু করে ভাটিতে দেড় কিলোমিটার ভাঙ্গন কবলিত হয়েছে কয়েক বছর আগে। রাজবাড়ি জেলার পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় ভাঙ্গন রোধের কোন পদক্ষেপ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আবার নদীর অপর পারে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বন্দেখালী, উলুবেড়িয়া, পূর্বমাদলা হয়ে মালিথিয়া পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে ভাঙ্গন। ভাটিতে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আম্বলশা ও নাকোল ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙ্গন চলছে।