মির্জাপুরে ৮৪০ কিমি রাস্তা বেহাল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিইডির অধীন ৯৪০ কিমি রাস্তার মধ্যে ৮৪০ কিমি রাস্তা চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে রাস্তায় কাজ না হওয়ায় রাস্তাগুলো ভেঙ্গেচুরে গেছে, স্থানে স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে। ফলে উপজেলার হাজার হাজার মানুষের চলাচলে অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এবং সওজ ও এলজিইডি অফিসে যোগাযোগ করলে অফিসের কর্মকর্তাগন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এই রাস্তাগুলো বেহাল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারের সময় বিভিন্ন দলের মন্ত্রী-এমপি রাস্তা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা উন্নয়ন হচেছ না। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই। মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে মোট সড়ক রয়েছে ৩২১টি এবং ব্রিজ রয়েছে ২৬৯টি। সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৯৪০ দশমিক ৯১কিমি। এর মধ্যে ৮৪০কিমি রাস্তা বেহাল। বিশেষ করে এলজিইডির অধীন প্রতিটি রাস্তারই করুন অবস্থা। এসব রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হাঁটাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। মির্জাপুর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন রাস্তা রয়েছে ১৩০ কিমি এবং ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে ২৫টি। সওজ’র রাস্তাগুলো হচ্ছে মির্জাপুরের গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোড, মির্জাপুরের পাকুল্যা-লাউহাটি রোড, মির্জাপুর-কেদারপুর লাইহাটি রোড এবং মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া রোড। এই চারটি রাস্তার মধ্যে পাকুল্যালাউহাটি রাস্তাটি মোটামুটি ভাল থাকলেও বাকি তিনটি রাস্তা খুবই করুন অবস্থা। বিশেষ করে গোড়াই-সখীপুর রাস্তাটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া রাস্তা নির্মানের জন্য গত তিন বছর আগে একনেকে ৫৩ কোটি টাকা পাস হলেও আজ পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলেছে বরাদ্দ না পাওয়ায় রাস্তাগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হচেছ না। অপরদিকে এলজিইডির অধীন কদিমধল্যা-বরাটি রাস্তা, শুভুল্যা-বরাটি রাস্তা, কদিমধল্যা-মহেড়া রাস্তা, কুরনি-ফতেপুর রাস্তা, নাটিয়াপাড়া-মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার রাস্তা, মির্জাপুর-কামারপাড়া রাস্তা, দেওহাটা-বহুরিয়া রাস্তা, রশিদদেওহাটা-যুকিরপোকা রাস্তা, মির্জাপুর-পাথরঘাটা রাস্তা, পেকুয়া পাথরঘাটা রাস্তা, পেকুয়া বালিয়াজান রাস্তা, হাটুভাঙ্গা-আজগানা রাস্তাসহ প্রতিটি রাস্তাই বেহাল। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শামসুল আলম খান রাস্তার বেহাল দশার কথা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না আসায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো মেরামত করা সম্ভব হচেছ না । তিনি আরও বলেন ২০০৯-২০১৩ অর্থ বছরে বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। সেখানে মিলেছে মাত্র ৯ কোটি টাকা। অপরদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মামুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।