নাগরিক সংহতির সমাবেশে বক্তারা

হাওড়ের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করতে হবে

আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে হাওড়ের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করার দাবি নাগরিক সংহতির সমাবেশে বক্তারা জানিয়েছেন। বক্তারা বলেন, হাওড়ের বোরো ধান—দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা পালন করে। দেশে উত্পাদিত মোট বোরো ধানের পাঁচ ভাগের এক ভাগ আসে হাওড় থেকে। কিন্তু ঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিবছর এই ধান বন্যার ঝুঁকিতে পড়ে। শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গতকাল শুক্রবার নাগরিক সংহতি আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান। নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, বাপার সদস্য এ বি এম আনিছুজ্জামান, ইফমা হোসেন, হাওড়বাসী আজিজুল হক, সমাজকর্মী মোহাম্মাদ আলী হাজারী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দশ বছরে পাঁচবার হাওড়ের মানুষ ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। যার প্রভাব পড়েছে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তায়। ডিসেম্বরে শুরু করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য উপযুক্ত সময়। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতা, সময় মতো অর্থ বরাদ্দ না হওয়া, প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ দেয়া আর এর সাথে সম্পৃক্ত সর্বগ্রাসী দুর্নীতি হাওড়ের ফসলকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয়। জানা গেছে, হাওড়ে এখনো কাজ শুরু হয়নি, যেখানে সব থেকে বেশি বাঁধ প্রয়োজন—সেই সুনামগঞ্জের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়নি। ফলে দেখা যাবে, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে তাড়াহুড়ো করে কাজ করা হবে—তাতে বাঁধের কাজ টেকসই হবে না। আর কাজ শেষ না করেও খরচ তুলে নেয়া হবে—যেটি বরাবরই ঘটছে। বক্তারা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে উপকূল, চর কিংবা হাওড় অঞ্চলে। তাই হাওড় অঞ্চলের বন্যা কখনোই শেষ হবে না। অর্থাত্ হাওড়ের অকাল বন্যা থেকে হাওড়ের মানুষ, সম্পদ বাঁচাতে নিতে হবে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। হাওড়বাসী যে ফসল বোনে তা শুধু তাদের নিজেদের জন্য নয়। তাদের সাথে সারাদেশের মানুষের স্বার্থ জড়িত। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে।