চলে গেলেন চিত্রনায়ক কায়েস

চলে গেলেন দেশীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক কায়েস। গতকাল সকাল ১০টায় তিনি নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন। প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক নিয়মেই তিনি ঘুম থেকে উঠে তিন ছেলে দীপ, বিদ্যুত্, জ্যোতি এবং একমাত্র কন্যা শিখাকে ডাকেন। স্ত্রী সাবেরা আক্তার ছবি তখন পাশেই ছিলেন। সকালের নাস্তা তখনও কায়েসের করা হয়ে উঠেনি। সবাইকে চোখের সামনে রেখেই সকাল প্রায় দশটার সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গুণী এই চলচ্চিত্র ব্যক্তির প্রয়াণে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, দর্শক অধিকার ফোরাম, সিনিয়র শিল্পীদের সংগঠন ‘বন্ধন’ প্রয়াত বরেণ্য অভিনেতা কায়েসের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। গতকাল বাদ জোহর শামসুদ্দীন কায়েসের মরদেহ তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বিএফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর মগবাজার টিঅ্যান্ডটি জামে মসজিদে বাদ আছর নামাজে জানাজার পর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ঢাকার মধুবাগের এক বাসার ছোট্ট এক কামরায় বিগত প্রায় তিন বছর যাবত বিছানায় শুয়েই কাটত সময় তার। সবসময় তার পাশে থাকতেন তার স্ত্রী সাবেরা আক্তার ছবি এবং কন্যা শিখা। শামসুদ্দীন কায়েসের জন্ম কুষ্টিয়ায় ১৯৪০ সালের ১৬ জানুয়ারি। ১৯৬৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স পড়ার সময় তিনি ‘ঘূর্ণিঝড়’ ছবিতে নায়ক হিসেবে কবরীর বিপরীতে অভিনয় করেন। ‘ঝড়ের পাখি’, ‘জয় বাংলা’, ‘পাগলা রাজা’, ‘মৌ চোর’, ‘রাজ দুলারী জাদু নগর’, ‘রাই বিনোদিনী’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘মহেশখালীর বাঁকে’, ‘বানজারান’, ‘সাহেব’, ‘লাল বেনারসী’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘লড়াকু’সহ তিন শতাধিক ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন।