গঙ্গাচড়ায় বিষমুক্ত কপি চাষ

নবনীদাস এলাকার কৃষক অনীল চন্দ্র মোহন্ত। এ বছর প্রথম কীটনাশক ছাড়া ৬০ শতক জমিতে বাঁধাকপি ও ২০ শতক জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। খরচ অনেক কম হয়েছে। কপির দাম থাকায় বেশি মুনাফা হবে বলে তিনি জানান। শুধু অনীল চন্দ্র মোহন্তই না রংপুরের গঙ্গাচড়ার কৃষকরা বিষমুক্ত কপি চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কম খরচে অধিক মুনাফা ঘরে তুলছেন। রবি মৌসুমে বাঁধাকপি ও ফুলকপি অন্যতম অর্থকারী ও জনপ্রিয় সবজি। কৃষকরা অনেক দিন থেকে এদেশে বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষ করলেও পোকা-মাকড় দমনে এতদিন কীটনাশক ব্যবহার করত। বাঁধাকপি ও ফুলকপি সবজি ব্যাপক ক্ষতি করে কয়েকটি প্রজাতির পাতাখেকো পোকা। এসব পোকা দমনে জমিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ও অধিকহারে বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশক অপপ্রয়োগ করছেন কৃষকরা। বিষাক্ত কীটনাশকের অপব্যবহারের কারণে একদিকে যেমন ব্যবহারকারী কৃষক ও ভোক্তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে সেই সাথে করছে পরিবেশ দূষণ। তাছাড়া কৃষকদের উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। সেই সাথে মাটির উর্বরতা ও ফলন কমছে প্রতিদিন। তাইতো কীটনাশক ছাড়া সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কম খরচে অধিক বাঁধাকপি ও ফুলকপি উত্পাদনে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কীটতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুর এর সহায়তায় ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে কাজ করে যাচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার নবনীদাস এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পোকা দমনে কপি ক্ষেতে ফেরোমন ফাঁদ বসানো হয়েছে। অনীল চন্দ্র ছাড়াও ওই এলাকার বিরেন চন্দ্র মোহন্ত ৩০ শতক জমিতে বাঁধাকপি ও ১০ শতক জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। তাছাড়াও বিজয় চন্দ্র মোহন্ত ২৫ শতক জমিতে বাঁধাকপির চাষ করেছেন। এ সময় কৃষক বিরেন চন্দ্র মোহন্ত জানান, গত ৭ থেকে ৮ বছর তিনি কপি চাষ করে আসছেন। এ বছর তিনি কীটনাশক ছাড়াই কপি চাষ করেছেন। আর কদিন পরই কপি তোলা যাবে। তবে এই পদ্ধতিতে চাষ করার কারণে উত্পাদন খরচ এবার কম হবে বলে তিনি জানান। গঙ্গাচড়াস্থ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুরের কীটতত্ত্ব বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, কৃষকদের আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকরা কম খরচে যেমন সবজি উত্পাদন করতে সক্ষম হবেন তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। তিনি আরো জানান, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ হচ্ছে এক ধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ যা কোনো প্রজাতির স্ত্রী পোকা কর্তৃক একই প্রজাতির পুরুষ পোকাকে প্রজনন কাজে আকৃষ্ট করার জন্য প্রাকৃতিকভাবে উত্পন্ন হয়। সাধারণত দুই থেকে চার ধরনের রাসায়নিক উপাদানের সংমিশ্রণে সেক্স ফেরোমন তৈরি করা হয়। এটি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।