শ্রীপুরে বাড়ছে শিশু শ্রমিক
শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০১
মাগুরার শ্রীপুরে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দরিদ্রতার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের শিশুকে বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে জীবন-জীবিকার সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করছে। আবার এলাকার অনেক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে না করতেই ঝরে পড়ছে। যে বয়সে লেখাপড়া করার কথা সে বয়সে তারা বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, ইট ভাঙ্গা, ভাঙ্গারী, টোকাই, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যানচালক, বাস-ট্রাকের হেলপার, মুদিখানা, মাছ আড়ত, গৃহ-পরিচারিকা, ওয়েল্ডিং, লেদ, হকারসহ বিভিন্ন ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এসব শিশুর সাথে কথা বলে জানা যায়, এদের মধ্যে অধিকাংশ শিশুই অতিদরিদ্র ও বিত্তহীন পরিবারের সন্তান। শ্রীপুর বাজারের স্মৃতি স্টোরের শিশু শ্রমিক মিনগ্রামের আমিন সেখের পুত্র শাহিদুল সেখ (১০) জানায়, তার পিতা একজন দরিদ্র দিনমজুর। সে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। প্রতিদিন সে যা আয় করে তা দিয়ে তাদের সংসার ভালভাবে চলে না। তাই সে অভাবের তাড়নায় পুত্রকে এ দোকানে মাসিক ১ হাজার টাকা বেতনের কাজে নিয়োজিত করেছে। শ্রীপুর কুন্ডু স্টোরের মালিক গোবিন্দ কুন্ডু জানান, গত কয়েক মাস পূর্বে মাগুরার সাইত্রিশ গ্রামের মৃত খবির মিয়ার হতদরিদ্র স্ত্রী তার পুত্র রুবেল (৯) কে আমার দোকানে কাজ শেখার জন্য রেখে গেছে । কাজ শেখা শেষ হয়ে গেলে বাজারের নিয়মানুসারে তাকে বেতন প্রদান করা হবে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিশু শ্রমিকের বয়স ৭ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব শিশু বড় বড় বাস, ট্রাকের হেলপার, লেদ, ওয়েল্ডিং ও বৈদ্যুতিক কাজ করছে। শিশুকাল থেকে অনেক পরিবারের শিশু বাড়ির বাইরে কাজ করার সুযোগে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে।