চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার
হ্যান্ডলিং কমে গেছে
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০২
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কন্টেইনার ভর্তি পণ্য উঠানামার বৃদ্ধির হার অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং অন্যান্য বছর শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ হলেও এ বছর সে তুলনায় কমে গিয়েছে। এ বছর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধির হার ১ ভাগের মধ্যে থাকবে ধারণা করা হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ এ বছর কম হওয়া ও সড়ক-রেলে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার অবনতি হওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বন্দরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯১৪। এ বছরের ২০১১-২০১২ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৭১ হাজার। অপরদিকে ২০১০-১১ অর্থবছরে একই সময়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৭০ হাজার। বর্তমান অর্থবছরে এ পর্যন্ত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধির পরিমাণ শতকরা শূন্য দশমিক ১৩ ভাগ। ডিসেম্বর শেষ হওয়া পর্যন্ত কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বৃদ্ধির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ১ ভাগের মধ্যে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হওয়ায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধির হার কমে গিয়েছে। বিশেষ করে কন্টেইনারবাহী পণ্যের আমদানি ও রপ্তানি কমে গিয়েছে। তবে বাল্ক (খোলা) পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিবছর কন্টেইনারবাহী ও বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পেলেও চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ সকল পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা তেমন একটা উন্নত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সড়ক ও রেল যোগাযোগের সমস্যার কারণে পরিবহন ব্যবস্থা শ্লথ হয়ে গিয়েছে। সড়ক পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নয়নের কাজ ধীর গতিতে হওয়ায় এবং খোঁড়াখুঁড়ির কারণে প্রায়ই সড়ক পথে যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য স্থানে কন্টেইনার বা পণ্যবাহী লরি-ট্রাক পৌঁছাতে পারে না। অন্যদিকে রেলের পর্যাপ্ত ওয়াগন না থাকায় এবং সিডিউল দেয়া সম্ভব না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খুবই নগণ্য সংখ্যক কন্টেইনার রেলপথে ঢাকার আইসিডিতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক সরওয়ার উদ্দিন বলেন, রেলপথে কন্টেইনার বহনের ক্ষমতা বাড়ানোর সাথে ঢাকার আইসিডিতে কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতাও বাড়ানো দরকার। কারণ বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৬৫ হাজার কন্টেইনার ঢাকা আইসিডিতে যায়। কিন্তু ঢাকা আইসিডিতে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৯০ হাজার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ৫ বছর ধরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আইসিডিতে কন্টেইনার যাওয়ার পরিমাণ কমে গিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশে আমদানি ও রপ্তানি কন্টেইনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে এবার আমদানি ও রপ্তানি কন্টেইনারের বৃদ্ধির পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে ঢাকার পানগাঁওয়ে কন্টেইনার টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় আগামী কয়েক মাসে নদীপথে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে আমদানি ও রপ্তানি খরচ অনেক কমে যাবে। শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষ নয়, আরো কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েকটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কন্টেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহন সহজ এবং সাশ্রয়ী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ।