জামদানিসহ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের
স্বত্ব রক্ষার তাগিদ
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫০
রাজধানীতে শনিবার এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোর স্বত্ব রক্ষা করতে হলে এখনই ভৌগোলিক নির্দেশনা আইন প্রণয়ন করতে হবে । তারা বলেন, ঢাকাইয়া জামদানি, নকশিকাঁথা রাজশাহীর ফজলি আমসহ বাংলাদেশি অনেক ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে কোনো নিবন্ধন নেই। শনিবার সকালে শিল্পকলা একাডেমীর সম্মেলন কক্ষে ‘ভৌগোলিক নির্দেশনা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যান্ড আইপি ফোরাম এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে বক্তৃতা করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সচিব ফেরদৌস আরা বেগম, শিল্পকলা একাডেমীর সচিব মনজুরুর রহমান, সঙ্গীত শিল্পী মাকসুদ, সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ ও এমএমসি’র কমিউনিকেশন অফিসার আব্দুল¬াহ হাসান। দিনব্যাপী সেমিনারে উন্নয়নকর্মী, শিল্পী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ অংশ নেন।
ভৌগোলিক নির্দেশনা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যান্ড আইপি ফোরামের প্রধান নির্বাহী এবিএম হামিদুল মিজবাহ। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশ এ পর্যন্ত খাদ্য এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্য মিলিয়ে মোট ৭৩টি পণ্যের তালিকা তৈরি করেছে। যেগুলো ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে। এদের মধ্যে আছে মাছ, ফলমূল, মিষ্টি, সবজি ও কৃষিপণ্যসহ মোট ৫২টি খাদ্যপণ্য। আর বাকি ২১টি খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মধ্যে ঢাকাই জামদানি এবং নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভৌগোলিক নির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ আইনটি না থাকার কারণে এসব পণ্যের কোনোটিকেই ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত করে সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। প্রস্তাবিত ভৌগোলিক নির্দেশনা আইনটি ২০০৩ সাল থেকে খসড়া অবস্থায় পড়ে আছে। এদেশের পণ্যগুলোকে আইনি সুরক্ষা দিতে হলে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে পণ্যগুলোকে নিবন্ধিত করতে হবে, যা একটি যথাযথ আইনি কাঠামোর অনুপস্থিতিতে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।