শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। ঘন কুয়াশায় নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও মাওয়ায় ফেরি চলাচল রাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি ও এ পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ঈশ্বরদী, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোরের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঈশ্বরদীতে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কুষ্টিয়া ও যশোরে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই থেকে তিনদিন শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি ঘটতে পারে। বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১০ দশমিক ২, ১০ দশমিক ৯ ও ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ও শিবালয় সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে আরিচা-পাটুরিয়া ও মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে গত কয়েকদিন ধরে রাতে ফেরি বন্ধ থাকছে। রাত ১০টা থেকে ১২টার ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোন কোনদিন সকাল ৮টায়, আবার কোন কোনদিন সকাল ১০টায় পুনরায় ফেরি চালু হচ্ছে। ঘাটগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঈশ্বরদীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার সারাদিনই সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সাঁড়া এলাকায় নদী ভাঙ্গনকবলিত মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, প্রচণ্ড শীতে শনিবার দুপুরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঝিকলকতি গ্রামের গোলবার হোসেন সরকার (৫৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। শরত্নগর হাটে বাজার সেরে ঠাণ্ডার মধ্যে বাড়ি ফিরেই তার কোল্ড স্ট্রোক হয়। এদিকে ঠাণ্ডায় অসংখ্য শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. শাহাদত হোসেন জানিয়েছেন। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় গাইবান্ধা জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ৬ দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত পনেরদিনে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ৯টি শিশুর মুত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে মৃতরা হলো-সদরের ভেলাকোপার মুক্তা (১ বছর), চিলমারী উপজেলার মাছাবান্দা গ্রামের খোকা মিয়া (৬৫) ও কুড়িগ্রাম পৌরসভার খানপাড়া এলাকার ইউসুফ (৭০)। তীব্র শীতের দাপটে হাইপার টেনশন, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, পেটেরপীড়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের আউটডোর ও ইনডোরে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুলনা অফিস জানান, ঘন কুয়াশার কারণে গত ১০ দিন ধরে রেল ও দূরপাল্লার কোচের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই কারণে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার গাড়ি খুলনায় আসতেও ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। বিভিন্ন রুট থেকে রেল ও যাত্রীবাহী কোচ খুলনায় আসতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব হচ্ছে। রেলের খুলনা স্টেশনমাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রেন আসা এবং যাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। কুয়াশার মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করানো সম্ভব হচ্ছে না। খুলনার সংবাদপত্র এজেন্ট সেকেন্দার আলী পাটোয়ারী জানান, ঘন কুয়াশার কারণে গত ১০/১২ দিন ধরে পত্রিকার গাড়ি খুলনায় আসছে বেলা ২টা-৩টায়। অথচ এর আগে অধিকাংশ পত্রিকার গাড়ি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে আসতো। জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জয়পুরহাটে শীত ও ঘন কুয়াশা জেঁকে বসেছে। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে দারিদ্র্যপীড়িত শ্রমজীবী মানুষের দিনযাপন। ঘন কুয়াশায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জেলার হাজার হাজার হেক্টর ক্ষেতের ফসল। কৃষকরা ইরি ধানের বীজতলা নিয়ে ভুগছেন দুশ্চিন্তায়। ঠাণ্ডাজনিত রোগে প্রতিদিন জেলার স্বাস্থ্য ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে আক্রান্ত রোগী, বিশেষ করে শিশুদের ভিড় বাড়ছে বেশি। রোদের অভাবে জেলার ২ শতাধিক চাতালে উত্পাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।