দুই নেত্রী একত্রে বসে সিদ্ধান্ত না নিলে সমস্যার সমাধান হবে না
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৪
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম ড্যান ডাব্লিউ মজীনা বলেছেন, দেশে চলমান অস্থিরতা দূর করতে, দেশ পরিচালনা এবং আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রধান দুই দলের নেত্রীকে একত্রে বসতে হবে। দুই নেত্রী একত্রে বসে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে দেশের সমস্যা সমাধান হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত হওয়া উচিত।
গতকাল শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় কুমুদিনী কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কুমুদিনী পরিবারের আমন্ত্রণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা মির্জাপুরে এসেছিলেন।
সকাল সাড়ে দশটায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং তার পরিবারের সদস্যরা কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছলে কুমুদিনী পরিবারের সদস্যরা, ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীরা, নার্সিং স্কুল ও বিএসসি নার্সিং কলেজের ছাত্রীরা এবং কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীরা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। কুমুদিনী কমপ্লেক্সের লাইব্রেরি মিলনায়তনে চা-চক্রের পর মজীনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ভারতেশ্বরী হোমসে গেলে ছাত্রীরা তাদের সম্মানে কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। পরে কুমুদিনী টাস্টের বিভিন্ন সেবাধর্মী কার্যক্রম প্রজেক্টরের মাধ্যমে তাদের দেখানো হয়। দুপুরে খাবারের পর তার সম্মানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিকে কুমুদিনী কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তেমন উন্নয়ন হচ্ছে না বাংলাদেশে। দেশ এগিয়ে নিতে হলে দুই দলের নেত্রীকে একত্রে বসে সিন্ধান্ত নিতে হবে কী করতে হবে। আগামী নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে এখন থেকেই রাজনৈতিক দলের নেতাদের একত্রে বসে সকল সমস্যা সমাধান করতে হবে। সর্বশেষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত হওয়া উচিত।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, কুমুদিনী পরিবার একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। তাদের সেবা কার্যক্রম দেখে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত। কুমুদিনী পরিবারকে তার সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতার ঘোষণা দেন তিনি। মজীনার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী গ্রেন মজীনা, মেয়ে আন্না মজীনা, মেয়ের জামাই মি. ট্রেইলর ও মার্কিন দূতাবাসের পাওলা।
কুমুদিনী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ব্যবস্থাপক রাজিব প্রসাদ সাহা, পরিচালক প্রতিভা মুত্সুদ্দি, শ্রীমতি সাহা, কুমুদিনী হাসপাতাল ও উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার, মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. এম এ হালিম, ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ প্রফেসর মনিকা দেবী বড়ুয়া, ভাইস প্রিন্সিপাল গোলাম কিবরিয়া, উল্ফাতুননেছা, ডা. প্রদীপ কুমার রায়, সহকারী প্রশাসক সৈয়দ হায়দার আলী ও মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। কুমুদিনী কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে বিকালে রাষ্ট্রদূত মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ পরিদর্শনে যান।